বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার মৃত্যু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ১১:৫৭ এএম

টেকনাফ সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার মৃত্যু

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত ৯ বছরের শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান শেষ পর্যন্ত না ফেরার দেশে চলে গেছে। শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শিশুটির মামা মাহফুজুর রহমান অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান যে দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিলেন কিন্তু হুজাইফার মাথায় লাগা বুলেটের আঘাত এতটাই গুরুতর ছিল যে শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। হুজাইফার এই অকাল মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্থানীয় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

উল্লেখ্য যে গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে রাখাইন রাজ্য থেকে আসা একটি লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি শিশু হুজাইফার শরীরে বিদ্ধ হয়। ওই দিন রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই চলছিল। ঘটনার পরপরই তাকে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। 

সেখানে অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে দ্রুত ঢাকার নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। প্রায় এক মাস ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে আজ সকালে না ফেরার দেশে পাড়ি জমালো শিশুটি। টেকনাফের স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তাহীনতার কথা প্রকাশ করেছেন।মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সাম্প্রতিক সময়ে সামরিক অস্থিরতা চরম আকার ধারণ করেছে। মংডু টাউনশিপের আশেপাশের এলাকায় জান্তা বাহিনী বিমান হামলা, ড্রোন হামলা এবং ভারী মর্টার শেল নিক্ষেপ করে চলেছে। 

বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির শক্ত অবস্থানের কারণে জান্তা বাহিনীর এই পাল্টা আক্রমণ এখন বাংলাদেশ সীমান্তের জন্য বড় ধরনের হুমকিতে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই সীমান্তের ওপার থেকে গুলির শব্দ এবং বিস্ফোরণের কম্পন বাংলাদেশের ভূখণ্ডে অনুভূত হচ্ছে। হুজাইফার মৃত্যু সীমান্ত এলাকার মানুষের মনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এর আগে গত কয়েক মাসেও সীমান্তে গোলাগুলির প্রভাবে বাংলাদেশের নাগরিক আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিজিবি ও স্থানীয় প্রশাসন সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো ভয় কাটছে না।