ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ১০:৩১ এএম
গভীর শ্রদ্ধা, যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপিত হয়েছে। শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি একুশের প্রথম প্রহরে শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু হয়। রাত ১২টা ১ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ শহিদ মিনারে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নামে।
সেখানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এবং ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ফুল দিয়ে ভাষা শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে রাত ১২টা ১৫ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার এবং রাত ১২টা ২৫ মিনিটে সাধারণ পাঠাগার চত্বরে ভাষা সৈনিক মরহুম দবিরুল ইসলামের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। অমর একুশের এই লগ্নে ভাষা শহিদদের স্মরণে পুরো এলাকা এক আবেগঘন পরিবেশে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দিনব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জেলার সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়।দিবসটি উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা, কবিতা আবৃত্তি, রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।
এছাড়া ভাষা শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বাদ যোহর বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের পাশাপাশি জেলার সকল মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে সুবিধাজনক সময়ে বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষায় সালাম, রফিক, বরকত, জব্বার ও শফিকসহ অসংখ্য শহিদের আত্মত্যাগের স্মৃতি আজ বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করছে ঠাকুরগাঁওবাসী। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক এই দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের বিষয়টিও এদিন কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করা হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন