সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬,

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১৮, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ

নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ

পদ্মা নদীতে আকস্মিক বৈরী আবহাওয়া ও প্রচণ্ড ঢেউয়ের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বুধবার রাত পৌনে নয়টা থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে সব ধরনের নৌযান চলাচল স্থগিত করা হয়। মূলত নদীতে তীব্র বাতাসের কারণে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবং যাত্রী সাধারণের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। 

নাব্য সংকট ও উত্তাল নদীর কারণে ফেরি চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠলে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি জানান যে রাত আটটা চল্লিশ মিনিটের দিকে পদ্মা নদীতে বাতাসের গতিবেগ ও ঢেউ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। এতে ফেরি চলাচল ও নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। বর্তমানে এই রুটে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৭টি ফেরি নিয়মিত যাতায়াত করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নদী শান্ত না হওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু করা সম্ভব হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এর আগে সন্ধ্যার পর থেকেই নদী উত্তাল হতে শুরু করায় রাত পৌনে আটটা থেকে লঞ্চ চলাচলও বন্ধ করে দেওয়া হয়। দৌলতদিয়া লঞ্চ ঘাটের ম্যানেজার নুরুল আনোয়ার মিলনের মতে প্রতিকূল আবহাওয়ায় নৌ-দুর্ঘটনা এড়াতেই এই আগাম সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে। হঠাৎ করে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উভয় ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। এতে কয়েকশ যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও চালকরা। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে ঘরমুখো যাত্রীরা ঘাটে অবস্থান করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হলে এবং বিআইডব্লিউটিসি থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার সাথে সাথেই ফেরি পারাপার পুনরায় শুরু হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে জানমালের নিরাপত্তা রক্ষায় তারা আপোষহীন। ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প পথ ব্যবহারের পরামর্শ দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ঈদের এই সময়ে যাত্রী ও যানবাহনের বাড়তি চাপের মধ্যে এমন আকস্মিক বিঘ্ন জনজীবনে ভোগান্তি বাড়িয়ে দিয়েছে।