বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

হাত-পা বেঁধে দিনমজুরকে কুপিয়ে মারল দুর্বৃত্তরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১, ২০২৬, ০১:১০ পিএম

হাত-পা বেঁধে দিনমজুরকে কুপিয়ে মারল দুর্বৃত্তরা

ঘটনাস্থলে এলাকাবাসীর ভিড়

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলায় হাত-পা বেঁধে আফছার সরদার নামে এক দিনমজুরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের ঘুঘুদহ পূর্বপাড়া গ্রামে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আফছার সরদার ওই গ্রামের মৃত কাজি সরদারের ছেলে। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে হেফাজতে নিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে আফছার সরদারের বাড়ির পাশেই প্রচণ্ড চিৎকার শুনতে পান তারা। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখতে পান, আফছারের হাত ও পা শক্ত করে বাঁধা অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছে। 

তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাত ছিল। প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে গ্রামবাসী দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আফছারকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত আফছারের পরিবার ও স্বজনরা এই ঘটনার পেছনে রাজনৈতিক প্রতিহিংসাকে দায়ী করছেন। নিহতের মেয়ে আমেনা খাতুন অভিযোগ করেন, গত সংসদ নির্বাচনে সক্রিয়ভাবে ভোট দেওয়া ও কাজ করাই তার বাবার জন্য বিপদ ডেকে এনেছিল। নির্বাচনের দিন প্রতিপক্ষরা তার বাবার ওপর হামলা চালিয়েছিল, তখন তিনি পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন। আমেনার দাবি, সেই পুরোনো নির্বাচনী বিরোধের জের ধরেই পরিকল্পিতভাবে তার বাবাকে হত্যা করা হয়েছে।

ছেলের অকাল মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা আবেদা খাতুন। তিনি বিলাপ করতে করতে জানান, আফছার ছিল অত্যন্ত সহজ-সরল প্রকৃতির মানুষ। দিনমজুরি করে সংসার চালানো ছাড়া সে অন্য কিছু বুঝত না। যারা তার ছেলেকে এভাবে কুপিয়ে মারল, তিনি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসি দাবি করেছেন। নিহতের বাড়িতে এখন চলছে স্বজনদের আহাজারি।

সাঁথিয়া থানার পুলিশ ঘটনার পর পরই তদন্তে নেমেছে। থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুল লতিফ সাংবাদিকদের জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে পূর্ব বিরোধের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। 

পুলিশ রাতেই অভিযানে নেমে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে এসেছে। বর্তমানে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন এবং মূল আসামিদের আইনের আওতায় আনতে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।