এপ্রিল ১, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম
বাগেরহাটের মোংলায় নদী পারাপারের সময় এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মোংলা রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (ইপিজেড) দুই শতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। বুধবার সকালে খেয়া পার হওয়ার সময় অতিরিক্ত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার ফলে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় বর্তমানে মোংলা ইপিজেডে কর্মরত হাজার হাজার শ্রমিকের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রতিদিনের মতো বুধবার সকালেও কয়েক হাজার শ্রমিক নদী পার হয়ে তাদের কর্মস্থলে যাওয়ার জন্য ঘাটে জড়ো হন। পারাপারের সময় ট্রলারে ওঠার জন্য অতিরিক্ত যাত্রী চাপ এবং শ্রমিকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়।
এক পর্যায়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে অনেক শ্রমিক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যান এবং একে অপরের ওপর আছড়ে পড়েন। এতে অন্তত দুই শতাধিক শ্রমিক শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পেয়ে গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার পর পরই স্থানীয় লোকজন ও সহকর্মীরা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার কাজ শুরু করেন। দ্রুত তাদের উদ্ধার করে নিকটস্থ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, আহতদের অনেকের অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক এবং প্রাথমিক চিকিৎসার পর অনেককে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার অভিযান এখনো চলায় আহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এদিকে এই ঘটনার পর সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তারা অভিযোগ করেন যে, দীর্ঘদিন ধরে খেয়া পারাপারে চরম অব্যবস্থাপনা চলে আসছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ট্রলারে তাদের পার হতে হয়। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা শৃঙ্খলা রক্ষার কোনো উদ্যোগ না থাকায় আজ এই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটল। শ্রমিকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষ নিরাপদ পারাপারের কোনো স্থায়ী সমাধান করছে না।
ঘটনার খবর পেয়ে মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পৌর প্রশাসক শারমীন আক্তার সুমি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন কাজ করছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের বিশৃঙ্খলা বা দুর্ঘটনা আর না ঘটে, সে লক্ষ্যে খুব শিগগিরই কার্যকর ও স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পারাপার ব্যবস্থাকে আরও উন্নত ও সুশৃঙ্খল করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে প্রশাসনের এমন আশ্বাসে শান্ত নন শ্রমিকরা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, এবার শুধু মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং নিরাপদ পারাপারের বাস্তব ও স্থায়ী সমাধান দেখতে চান তারা। দ্রুত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে তারা কঠোর আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন