বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন আবু সাঈদের বাবা-মা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৯, ২০২৬, ০২:৫৮ পিএম

রায়ের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন আবু সাঈদের বাবা-মা

প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন আবু সাঈদের বাবা-মা

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার বাবা মকবুল হোসেন ও মা মনোয়ারা বেগম। বৃহস্পতিবার দুপুরে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর এলাকার জাফর পাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তারা এই প্রতিক্রিয়া জানান। 

রায় ঘোষণার পর থেকেই পরিবারটির মধ্যে এক ধরণের হতাশা লক্ষ্য করা গেছে। তাদের মতে, যে নৃশংসতার শিকার তাদের সন্তান হয়েছে, সেই তুলনায় এই সাজা যথেষ্ট নয়।

আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে মাত্র দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে, যা কাম্য ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন, মামলার অন্যতম আসামি ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া তার ছেলেকে সরাসরি আক্রমণ করেছিলেন, কিন্তু তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়া হয়নি।

 মকবুল হোসেনের দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা বড় অপরাধীদের অনেককেই আড়াল করা হয়েছে। বিশেষ করে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বাঁচিয়ে দিয়ে ছোট পদের সদস্যদের সাজা দেওয়ার মাধ্যমে ন্যায়বিচার বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তার ভাষায়, অনেক বড় অপরাধী এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।ছেলের অকাল মৃত্যুর বিচার চেয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা মা মনোয়ারা বেগমও এই রায়ে সন্তুষ্ট হতে পারেননি। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি বলেন, যদি আরও বেশি আসামির ফাঁসির আদেশ হতো, তবেই হয়তো তার মনে শান্তি আসত।

আবু সাঈদ মৃত্যুর আগে যে অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তার প্রতিফলন এই রায়ে ঘটেনি বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি বারবার উল্লেখ করেন যে, তার ছেলেকে দিনের আলোতে সবার সামনে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে, তাই অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত ছিল।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আবু সাঈদের পরিবারের প্রত্যাশা ছিল এই ঐতিহাসিক মামলার মাধ্যমে এমন একটি উদাহরণ তৈরি হবে যা ভবিষ্যতে ন্যায়বিচারের পথ সুগম করবে। 

কিন্তু রায়ের পর তাদের এই প্রকাশ্য অসন্তোষ মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা বড় অপরাধীদের পালানোর সুযোগ দেওয়া এবং যথাযথ সাজা নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত। আবু সাঈদের বাবা-মা মনে করেন, প্রকৃত খুনিদের সবাইকে ফাঁসির কাষ্ঠে না ঝোলানো পর্যন্ত তাদের আত্মা শান্তি পাবে না।