শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

হুইপ অপু ও আজহারীর হাত থেকে পুরস্কার নিল খুদে আসিফ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১২, ২০২৬, ১০:৩০ এএম

হুইপ অপু ও আজহারীর হাত থেকে পুরস্কার নিল খুদে আসিফ

লালমনিরহাটের প্রত্যন্ত গ্রামের এক মাদ্রাসা ছাত্র এখন জাতীয় চ্যাম্পিয়নের মর্যাদায় ভূষিত হয়েছে। রাজধানীর ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজে (ডিআরএমসি) আয়োজিত ‘৩য় ডিআরএমসি জাতীয় ইসলামি সাংস্কৃতিক উৎসব ২০২৬’-এ সারা দেশের সেরা সব প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে কুরআন তেলাওয়াতে প্রথম স্থান অধিকার করেছে মোহাম্মদ আসিফ ইসলাম। 

শনিবার উৎসবের সমাপনী দিনে জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু ও প্রখ্যাত ইসলামিক স্কলার ড. মিজানুর রহমান আজহারীর হাত থেকে গৌরবময় এই পুরস্কার গ্রহণ করে আসিফ।

সাফল্যের এই উজ্জ্বল শিখরে পৌঁছানোর পেছনে আসিফের রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প। জন্মের পরপরই তার বাবা তার মাকে ফেলে চলে গিয়েছিলেন। বাবার স্নেহ আর ছায়া ছাড়াই বড় হতে থাকা আসিফকে পরে তার নানি লালমনিরহাটের তুষভান্ডার ইউনিয়নের আমিনগঞ্জ গ্রামে নিজের কাছে রেখে লালন-পালন করেন। 

নিদারুণ দারিদ্র্য আর অনিশ্চয়তার মাঝে যখন আসিফের শৈশব কাটছিল, ঠিক তখনই স্থানীয় ‘হাজী রেফাজ উদ্দিন শহীদ মোল্লা হাফেজী মাদ্রাসা ও এতিমখানা’-র খোঁজ পেয়ে তাকে সেখানে ভর্তি করা হয়। সেই এতিমখানাই আজ তাকে বিশ্বজয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে। আসিফ বর্তমানে এই মাদ্রাসায় ১৫ পারা হিফজ সম্পন্ন করার পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করছে।‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ তথা এসো কল্যাণের পথে—এই বিশেষ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই উৎসবে দেশের শতাধিক খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় দুই সহস্রাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। 

৩২টি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাটাগরির এই বিশাল আয়োজনে লালমনিরহাটের একটি সাধারণ মাদ্রাসার ছাত্রের এমন জয়জয়কার পুরো জেলার জন্য এক বিশাল প্রাপ্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ডিআরএমসি’র অধ্যক্ষ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবের হোসেনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ড. মিজানুর রহমান আজহারী আসিফসহ সকল বিজয়ীদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। 

তিনি বলেন, এ ধরনের মেধাগুলোই আগামীর সুন্দর সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবে। এতিমখানা থেকে উঠে আসা আসিফের এই অর্জন উপস্থিত সকলকে আবেগপ্রবণ করে তোলে। উল্লেখ্য যে, এই বিশাল প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন নামী প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আসিফের প্রথম হওয়াটি তার কঠোর পরিশ্রম এবং মাদ্রাসার শিক্ষকদের নির্দেশনার ফসল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুষ্ঠান শেষে বিজয়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।