বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

খাগড়াছড়িতে বর্ণিল সাংগ্রাই উৎসব ও জলকেলি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ০৫:৩৫ পিএম

খাগড়াছড়িতে বর্ণিল সাংগ্রাই উৎসব ও জলকেলি

খাগড়াছড়িতে সাংগ্রাই ও জলকেলি

খাগড়াছড়িতে মারমা সম্প্রদায়ের প্রাণের উৎসব ‍‍`মাহা সাংগ্রাই‍‍` ঘিরে বইছে অনাবিল আনন্দের জোয়ার। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে বর্ণিল শোভাযাত্রা ও ঐতিহ্যবাহী জলকেলি বা জলোৎসবের মধ্য দিয়ে পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করে নিয়েছে মারমা জনগোষ্ঠী। পাহাড়ের এই ঐতিহ্যবাহী উৎসব উপভোগ করতে খাগড়াছড়িতে এবার দেশি-বিদেশি রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে।

উৎসবের তৃতীয় দিনে আজ মঙ্গলবার সকালে বৌদ্ধ বিহারগুলোতে ‍‍`ক্যং ফুল পূজা‍‍`র মধ্য দিয়ে সাংগ্রাইয়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। এরপর খাগড়াছড়ি জেলা সদরের পানখাইয়াপাড়া বটতলায় উৎসবের শুভ উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা এমপি। 

মারমা উন্নয়ন সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত এই মঙ্গল শোভাযাত্রায় মারমা শিল্পীরা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের নৃত্য-গান পরিবেশন করেন। বর্ণিল সাজে সজ্জিত হাজারো তরুণ-তরুণীর এই র‍্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরো জেলায় উৎসবের রং ছড়িয়ে দেয়।

সাংগ্রাই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী জলকেলি। পানখাইয়াপাড়া বটতলায় আয়োজিত জলোৎসবের শুভ সূচনা করেন খাগড়াছড়ি রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কেএম ওবাইদুল হক। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা। জলকেলিতে মারমা তরুণ-তরুণীরা একে অপরের দিকে মৈত্রীর জল ছিটিয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন। মারমা জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস, এই পবিত্র জলের মাধ্যমেই অতীতের সব দুঃখ, গ্লানি ও অশুভ শক্তি ধুয়ে-মুছে যাবে এবং নতুন বছর বয়ে আনবে সুখ ও সমৃদ্ধি।

সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কেএম ওবাইদুল হক তার বক্তব্যে প্রত্যাশা করেন যে, বৈসাবি উৎসবের মাধ্যমে পাহাড়ে সকল সম্প্রদায়ের মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে। উল্লেখ্য যে, জলকেলি ছাড়াও উৎসব উপলক্ষে স্থানীয়ভাবে ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, পিঠা উৎসব এবং রাতে ওপেন কনসার্টের আয়োজন করা হয়েছে। পাহাড়ের এই বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি দেখে অভিভূত পর্যটকরাও। জনপ্রতিনিধিদের মতে, বৈসাবি এখন কেবল পাহাড়ের নয়, বরং একটি জাতীয় ও সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে।