বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

আজ মধ্যরাত থেকে সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

আজ মধ্যরাত থেকে সাগরে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

বঙ্গোপসাগরের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং মাছের স্বাভাবিক প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে টানা ৫৮ দিনের জন্য সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এই নিষেধাজ্ঞা আগামী ১১ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এই দীর্ঘ দুই মাস সমুদ্রযাত্রায় ইতি পড়ায় উপকূলীয় জেলা ভোলার প্রায় ৬৪ হাজার সামুদ্রিক জেলের মাঝে নেমে এসেছে চরম দুশ্চিন্তার ছায়া।

নিষেধাজ্ঞার খবর পাওয়ামাত্রই গভীর সমুদ্র থেকে অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার ইতোমধ্যে তীরে ফিরতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকেই ভোলার দৌলতখানের পাতারখাল, চরফ্যাশনের সামরাজ, নুরাবাদ এবং মনপুরার রামনেওয়াজ ও হাজিরহাটসহ বিভিন্ন ঘাটে ট্রলারগুলো নোঙর করতে দেখা গেছে। 

জেলেরা এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন তাদের জাল ও অন্যান্য সরঞ্জাম গুছিয়ে রাখতে। কেউ কেউ এই অবসরে ট্রলার মেরামতের কাজ সারছেন। তবে সাগরে যাওয়ার পথ বন্ধ হওয়ায় সংসারের দৈনন্দিন খরচ এবং বিভিন্ন এনজিওর ঋণের কিস্তি কীভাবে শোধ হবে, তা নিয়ে জেলে পরিবারগুলোতে প্রবল উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

নিবন্ধিত জেলেদের জন্য সরকারিভাবে চাল সহায়তার ঘোষণা থাকলেও তা নিয়ে রয়েছে নানা অভিযোগ। জেলা মৎস্য দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ভোলায় নিবন্ধিত সমুদ্রগামী জেলের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৯৫৪ জন। তাঁদের খাদ্য সহায়তা হিসেবে দুই ধাপে মোট ৭৭ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। তবে জেলেদের দাবি, চাল বিতরণের সময় অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালী ও জনপ্রতিনিধিদের কারণে প্রকৃত জেলেরা বঞ্চিত হন। ভোলার মৎস্যজীবীদের মতে, চালের পরিবর্তে যদি সরাসরি তাদের মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হতো, তবে অনিয়ম ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসত।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির জাতীয় লক্ষ্য অর্জনেই এই ৫৮ দিনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। কর্মহীন জেলেদের দ্রুত খাদ্য সহায়তার আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি সমুদ্রসীমায় প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কোনো ট্রলার সমুদ্রে প্রবেশ করলে বা মাছ ধরলে তাদের বিরুদ্ধে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সহায়তায় কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।