এপ্রিল ২৯, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের পাঁচটি গ্রামে গত তিন দিন ধরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীরা রাতে পড়াশোনা করতে না পারায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রাতের কালবৈশাখী ঝড়ে উপজেলার মহিষবাথান, মহিষবাথান পূর্ব পাড়া, ইলশামারী, লালডোবা ও পূর্ব নলছিয়া গ্রামে বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটে।
ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে গেছে এবং মেইন লাইনের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সামনে থেকে সরবরাহ লাইনের সমস্যা সমাধান করে ধাপে ধাপে শেষ পর্যন্ত কাজ করতে হচ্ছে বলে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।টানা তিন দিন বিদ্যুৎ না থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
বাদশা নামে এক ব্যবসায়ী জানান, দোকানের ফ্রিজে রাখা আইসক্রিম, দইসহ নানা পচনশীল পণ্য গলে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া সাধারণ মানুষ মোবাইল ফোন চার্জ করতে না পারায় জরুরি যোগাযোগ থেকেও বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।সবচেয়ে সংকটে পড়েছে ওইসব এলাকার এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। ইলশামারী এলাকার এক পরীক্ষার্থী জানায়, সকালে পরীক্ষা থাকায় রাতেই বেশি পড়াশোনা করতে হয়। কিন্তু বিদ্যুৎ না থাকায় রাতে মোমবাতি জ্বালিয়েও ঠিকমতো পড়া যাচ্ছে না।
এতে পরীক্ষা খারাপ হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। লালডোবা গ্রামের বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, তিন দিন ধরে অন্ধকারে থাকায় বাচ্চাদের পড়ালেখা বন্ধ হয়ে গেছে এবং ফ্রিজের খাবার ফেলে দিতে হয়েছে।জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক সাহিদুল ইসলাম জানান, গত রোববারের ঝড়ে বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মেরামতের কাজ শুরু করা হলেও এর মধ্যে পুনরায় ঝড়বৃষ্টি শুরু হওয়ায় কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালুর চেষ্টা চলছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। বর্তমানে ওই এলাকার মানুষ মোমবাতি ও হারিকেন জ্বালিয়ে রাত পার করছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন