বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

চকলেট দেওয়ার প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত পলাতক

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুন ৩, ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

চকলেট দেওয়ার প্রলোভনে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, অভিযুক্ত পলাতক

রাজবাড়ী জেলা সদরে সাত বছর বয়সী এক অবুজ শিশুকে চকলেটের লোভ বা প্রলোভন দেখিয়ে পাশবিক ধর্ষণচেষ্টার এক অত্যন্ত বর্বরোচিত ও সংবেদনশীল অভিযোগ উঠেছে তারই আপন ফুফার বিরুদ্ধে। পবিত্র ঈদুল আজহার আগের দিন ঘটে যাওয়া এই পৈশাচিক ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে রাজবাড়ী সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন। 

আইনি অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই ঘটনার সাথে জড়িত পাষণ্ড অভিযুক্ত ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য স্থানীয় থানা পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় চিরুনি অভিযান পরিচালনা করছে।সমাজে ক্রমাগত বাড়তে থাকা এই ধরনের পারিবারিক ও সামাজিক নৈতিক অবক্ষয়ের ঘটনাগুলো কোমলমতি শিশুদের মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ এবং সার্বিক নিরাপত্তাকে এক চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের লিখিত ভাষ্য অনুযায়ী, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মূল বাসিন্দা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মাসুদ মন্ডল (৪০) দীর্ঘদিন ধরে রাজবাড়ী সদর উপজেলায় তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে স্থায়ীভাবে বসবাস করছিলেন। 

গত ২৭ মে বুধবার বিকেলে শিশুটির মা যখন বাড়ির পাশে একটি ফাঁকা মাঠে গরুর জন্য ঘাস কাটতে গিয়েছিলেন, ঠিক তখনই ঘর ফাঁকা থাকার সুবর্ণ সুযোগে লিপ্ত হয় ওই পাষণ্ড। অভিযুক্ত মাসুদ শিশুটিকে চকলেট কিনে দেওয়ার নাম করে প্রথমে হাতে ১০ টাকা দেয় এবং পরবর্তীতে মুখ চেপে ধরে খাটের ওপর জোরপূর্বক ধর্ষণের অশুভ চেষ্টা চালায়।শিশুটির মায়ের আকস্মিক উপস্থিতি এবং চিৎকারের কারণেই মূলত এক বড় ধরনের নির্মম ও পৈশাচিক ট্রাজেডির হাত থেকে রক্ষা পায় ওই অসহায় শিশুটি।

ঘটনার পরপরই লোকলজ্জা, তীব্র পারিবারিক চাপ এবং সামাজিক সম্মানের কথা চিন্তা করে বিষয়টি প্রথমে সম্পূর্ণ গোপন রাখার চেষ্টা করা হলেও দিন দিন শিশুটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়তে শুরু করে। মেয়ের চরম শারীরিক ও মানসিক অবস্থার এমন আশঙ্কাজনক অবনতি দেখে অবশেষে বাধ্য হয়ে ভুক্তভোগীর পরিবার মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজবাড়ী সদর থানায় উপস্থিত হয়ে এই লিখিত আইনি অভিযোগ দায়ের করেন। সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ মামলা নথিভুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে এই স্পর্শকাতর ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আসামিকে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।