শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

১৯ জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি শামীম ওসমানের অস্ত্রবাজি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জুলাই ১৯, ২০২৬, ১০:৪৫ এএম

১৯ জুলাইয়ের রক্তাক্ত স্মৃতি শামীম ওসমানের অস্ত্রবাজি

ছবি - সংগৃহীত

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি এখনো তাজা নারায়ণগঞ্জে। দুই বছর পেরিয়ে গেলেও ১৯ জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত বিকালের স্মৃতি শহরবাসীর মনে এখনো আতঙ্কের জন্ম দেয়। তৎকালীন সংসদ সদস্য শামীম ওসমান ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ মিছিলে সশস্ত্র হামলা চালানোর অভিযোগ রয়েছে সেই দিনে।দুই বছর অতিক্রান্ত হলেও অভিযুক্ত অস্ত্রধারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শুক্রবার জুমার নামাজের পর চাষাঢ়া ও ডিআইটি মসজিদ এলাকা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার মিছিল বের হওয়ার কথা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, নামাজের আগেই নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের ভেতরে ও নির্মাণাধীন ভবনে অবস্থান নিয়েছিলেন আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীরা। মিছিল এগিয়ে আসার সময়ই ক্লাব থেকে অতর্কিতে হামলা চালানো হয়, যা মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকাকে রণক্ষেত্রে পরিণত করে।

অভিযোগ রয়েছে, হামলার সময় শামীম ওসমান ও তার ছেলে অয়ন ওসমানসহ পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেন, ওইদিন তাদের হাতে পিস্তল, শটগান ও অটোমেটিক অস্ত্র দেখা গিয়েছিল। চাষাঢ়া থেকে ডিআইটি এবং পরবর্তীতে জালকুড়ি এলাকায় পর্যন্ত গুলিবর্ষণের অভিযোগ ওঠে তাদের বিরুদ্ধে। রাইফেল ক্লাব থেকে লুট করা অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও এনেছেন স্থানীয়রা।

বিকালের দিকে জালকুড়ি ও পাসপোর্ট অফিসের গলিতেও আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। উত্তেজিত জনতা প্রতিরোধ গড়ে তুললে শামীম ওসমান ও তার অনুসারীরা পিছু হটেন। পরবর্তীতে উত্তেজনা চরমে পৌঁছালে পাসপোর্ট অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। সেদিনকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে অনেকেই এখনো শিউরে ওঠেন।

শামীম ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও সেইদিনের রক্তাক্ত স্মৃতি নারায়ণগঞ্জের মানুষের কাছে এখনো ন্যায়বিচারের প্রতীক্ষা হিসেবে বেঁচে আছে।