আগস্ট ৩০, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
খুলনার পাইকগাছায় গত জুলাই মাসে রান্না করার পর গরুর মাংসের রং হঠাৎ উজ্জ্বল সবুজ হয়ে যাওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনার বৈজ্ঞানিক রহস্যের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাবরেটরিতে সংগৃহীত মাংসের নমুনা পরীক্ষার পর নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মাংসের রং পরিবর্তনের পেছনে কোনো ধরনের পচন, ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বা ফরমালিনের বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা নেই।
ফ্রিজে দীর্ঘক্ষণ সংরক্ষণ এবং রান্নার সময় উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে মাংসের নিজস্ব রঞ্জক পদার্থের রাসায়নিক রূপান্তরের কারণেই মূলত এই অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটেছিল। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ল্যাবরেটরি প্রতিবেদনে ফরমালিন বা ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহারের সমস্ত অভিযোগ নাকচ করা হয়েছে। ঘটনার সূত্রপাত গত ২২ জুলাই সকালে, যখন পাইকগাছা পৌর বাজারের কসাই ইসমাইল গাজীর দোকান থেকে মডার্ন বেকারির কর্মচারীরা প্রায় চার কেজি গরুর মাংস কেনেন।
দুপুরের পিকনিকের রান্নার সময় বাবুর্চি মশলা কষানোর পর কড়াইয়ে মাংস দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই টুকরোগুলো গাঢ় সবুজ রং ধারণ করে, যদিও মশলা ও ঝোলের রং সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বাসি বা ফরমালিনযুক্ত মাংস বিক্রির অভিযোগ তোলা হলেও কসাই তা অস্বীকার করেন।
পরে উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে পুলিশ ও স্যানিটারি ইন্সপেক্টর রান্না করা মাংস এবং ফ্রিজে থাকা কাঁচা মাংস জব্দ করে পরীক্ষার জন্য পাঠান। গত ২৭ আগস্ট বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের খাদ্য বিশ্লেষক নাজিয়া সুলতানার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে জানানো হয়, নমুনায় সিউডোমোনাসসহ কোনো ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি বা পচনশীল দুর্গন্ধ পাওয়া যায়নি।
স্পেকট্রোফটোমেট্রিক পরীক্ষার ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, ফ্রিজে দীর্ঘায়িত সংরক্ষণ এবং রান্নার উচ্চ তাপমাত্রার সংস্পর্শে আসার কারণে মাংসের মায়োগ্লোবিন বা হিম-রঞ্জক পদার্থের কাঠামোগত পরিবর্তনের ফলেই এই সবুজ রং সৃষ্টি হয়েছে। বিরল এই মিথস্ক্রিয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা সামনে আসার মধ্য দিয়ে বিক্রেতা ও স্থানীয়দের মধ্যে চলা দীর্ঘদিনের দোষারোপ এবং জনমনে থাকা বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন