শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬,

বিরলে জনগোষ্ঠীর জীবন বদলাচ্ছে শিক্ষার আলোয়

সুবল রায়

জুলাই ২৮, ২০২৬, ০৩:০১ পিএম

বিরলে জনগোষ্ঠীর জীবন বদলাচ্ছে শিক্ষার আলোয়

ছবি: দিনাজপুর টিভি নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রায় বিলুপ্তপ্রায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কড়া সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে এবং ভাষার কারণে পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়া রোধে দিনাজপুরের বিরল উপজেলায় নেওয়া হয়েছে অভিনব এক উদ্যোগ। উত্তরাঞ্চলের ত্রিশটি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম পিছিয়ে থাকা এই কড়া সম্প্রদায়ের ছেলেমেয়েরা অতীতে ভাষা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে উচ্চশিক্ষা তো দূরের কথা, মাধ্যমিকের গণ্ডিও পার হতে পারত না। 

কিন্তু সেই অচলায়তন ভেঙে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাট্যতত্ত্ব বিভাগে ভর্তি হয়ে অনন্য এক নজির স্থাপন করেছেন এই গ্রামেরই তরুণ লাপল কড়া।তার এই অভাবনীয় সাফল্য এখন পুরো গ্রামের তরুণ প্রজন্মকে নতুন স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেছে।দিনাজপুরের বিরল উপজেলার হালজায় ঝিনাইকুড়ি গ্রামে বসবাসরত এই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা ছিল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় ভাষার প্রতিবন্ধকতা। একসময় বন-জঙ্গলে শিকার করে জীবন কাটালেও বর্তমানে তারা প্রধানত কৃষি শ্রমিকের কাজ করে কষ্টে দিন পার করছেন। 

এই চরম প্রতিকূলতার মাঝে লাপল কড়ার উচ্চশিক্ষায় পৌঁছানোর অনুপ্রেরণা থেকে স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা ভাবনার সহযোগিতায় গ্রামে গড়ে তোলা হয়েছে কড়া পাঠশালা। এই বিদ্যালয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মাতৃভাষার আদলে সহজ উপায়ে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে।সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, পাঠশালার শিক্ষকরা আদিবাসী হওয়ায় তারা শিক্ষার্থীদের নিজস্ব মাধুর্য ও সাবলীল ভাষায় পাঠদান করতে পারছেন। 

ফলে শিশুদের পড়াশোনায় মনোযোগ যেমন বহুলাংশে বেড়েছে, তেমনি অভিভাবকদের মাঝেও আশার সঞ্চার হয়েছে। বর্তমানে এই গ্রামে ২৪টি আদিবাসী কড়া পরিবার রয়েছে এবং কড়া পাঠশালায় ১৯ জন শিক্ষার্থী বিনামূল্যে প্রাইভেট ও অতিরিক্ত কোচিংয়ের সুবিধা পাচ্ছে। গ্রামের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই বলে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন।এই ক্ষুদ্র উদ্যোগের হাত ধরে গ্রামটি অদূর ভবিষ্যতে একটি আদর্শ শিক্ষা গ্রামে রূপ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।