শুক্রবার, ০২ অক্টোবর, ২০২৬,

মাদক রুখতে সন্তানদের মাঠে নামাতে হবে: এমপি জাহাঙ্গীর

মো: মামুনুর রশিদ

অক্টোবর ২, ২০২৬, ০৭:৪১ পিএম

মাদক রুখতে সন্তানদের মাঠে নামাতে হবে: এমপি জাহাঙ্গীর

ছবি: দিনাজপুর টিভি

দিনাজপুর জেলাকে সুস্বাদু চাল ও সুমিষ্ট লিচুর খ্যাতির মতোই নিয়মিত খেলাধুলায় মুখরিত একটি সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত জেলা হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন দিনাজপুর সদর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে হলে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে খেলার মাঠে ফিরিয়ে এনে বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট মাঠে স্থানীয় নিমনগর যুবসমাজের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নিমনগর বালুবাড়ি মিনি বিশ্বকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।

সমাজকে সুস্থ রাখতে হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে খেলার মাঠে নিয়ে আসতে হবে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঐতিহ্যগতভাবে দিনাজপুরের নাম বললেই যেমন সুস্বাদু চাল ও বিখ্যাত মিষ্টি লিচুর কথা মনে পড়ে, ঠিক তেমনি এই ঐতিহাসিক জনপদকে মাঠের খেলাধুলায় ভরপুর এক প্রাণবন্ত অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে কেবল আইনি নজরদারি বা কঠোর অভিযানই যথেষ্ট নয়। তরুণ প্রজন্মকে এর বিধ্বংসী ক্ষতি থেকে দূরে রাখতে হলে প্রতিটি পরিবার থেকে সন্তানদের মাঠমুখী করতে হবে এবং তাদের নানা ধরনের শারীরিক ও প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলায় সরাসরি যুক্ত করতে হবে।

খেলাধুলা তরুণদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড এবং মাদক থেকে দূরে রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ভূমিকা রাখে বলে তিনি জানান। নতুন প্রজন্মকে ইতিবাচক ও সুন্দর জীবনধারায় পরিচালিত করতে অভিভাবক, শিক্ষক এবং সমাজের সকল স্তরের দায়িত্বশীল নাগরিকদের একযোগে মাঠে নেমে কাজ করার আহ্বান জানান এই আইনপ্রণেতা। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়ন এবং উদীয়মান খেলোয়াড়দের জন্য পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ও প্রণোদনা প্রদান করছে। রাষ্ট্রীয় এই সুযোগগুলোকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগিয়ে একটি মাদকমুক্ত, সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ সমাজ বিনির্মাণে এগিয়ে আসতে যুবসমাজের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো. আব্দুল ওয়াদুদ মন্ডল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন দিনাজপুর পৌর বিএনপির সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন মন্ডল বকুল এবং দিনাজপুর জেলা মোটর পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল কাইয়ুম। এছাড়া স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উদ্বোধনী পর্বে উপস্থিত ছিলেন। মাঠের চারপাশ ঘিরে বিপুলসংখ্যক সাধারণ দর্শক ও ক্রীড়ামোদী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো প্রাঙ্গণে এক উৎসবমুখর আমেজের সৃষ্টি হয়।

আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, এবারের প্রতিযোগিতায় স্থানীয় মোট আটটি দল অংশ নিচ্ছে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে প্রতীকী ‘বাংলাদেশ জাতীয় দল’ বনাম ‘জার্মানি দল’ মুখোমুখি হয়, যেখানে নির্ধারিত সময়ে উভয় দলের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াই শেষে ম্যাচটি গোলশূন্য সমতায় শেষ হয়। টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ব্যতিক্রমী বিশেষত্ব হলো, ছোট গোলপোস্টের এই মিনি বিশ্বকাপে গোলরক্ষক বা খেলোয়াড় কেউই হাতের কোনো ব্যবহার করতে পারেন না; সাধারণ থ্রো-ইন থেকে শুরু করে গোলপোস্টে বল ঠেকানো পর্যন্ত সব প্রক্রিয়াই সম্পূর্ণভাবে পা দিয়ে পরিচালনা করার কঠোর নিয়ম রাখা হয়েছে।