বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

আবারও বাড়ল তেলের দাম, উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

আবারও বাড়ল তেলের দাম, উত্তাল মধ্যপ্রাচ্য

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে হঠাৎ করেই বড় ধরনের অস্থিরতা শুরু হয়েছে যা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য নতুন দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের ফলে সোমবার তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

 বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে মূল্যের ওপর। সোমবার জুন মাসে সরবরাহের জন্য মার্কিন অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলার ৪২ সেন্টে পৌঁছেছে। 

একই সময়ে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড হিসেবে পরিচিত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দাঁড়িয়েছে ব্যারেলপ্রতি ১০৪ ডলার ৪৯ সেন্টে যা গত কয়েক মাসের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ রেকর্ড।

এখানে মূল বিষয়টি হলো ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘাতের আশঙ্কা। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন যে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের সম্ভাবনা এখনো শেষ হয়ে যায়নি। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং তাদের সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া সাম্প্রতিক পাল্টা প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন যা বাজারের অস্থিরতাকে আরও উসকে দিয়েছে। ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ইরানের প্রতিনিধিদের জবাবকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে যদি দ্রুত কোনো সমঝোতা না হয় তবে তেলের বাজারে এই উর্ধ্বগতি চলতেই থাকবে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলছে। বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি তেল এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। যদি ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করে তবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের ধাক্কার মুখে পড়বে। 

এমনটা হলে তেলের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে যা বাংলাদেশের মতো আমদানিনির্ভর দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তেলের দাম বাড়লে এর ধারাবাহিকতায় পরিবহন খরচ এবং নিত্যপণ্যের দাম বাড়ার শঙ্কাও প্রবল হয়ে উঠেছে।