বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

শিক্ষকদের আলাদা পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৪:৪৯ পিএম

শিক্ষকদের আলাদা পে-স্কেল নিয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী

দেশের মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করতে এবং তাদের এই পেশায় ধরে রাখতে শিক্ষকদের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি বেতন কাঠামো বা পে-স্কেল গঠনের পক্ষে জোরালো মত দিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে ময়মনসিংহে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার কেন্দ্রসচিবদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। 

মন্ত্রীর এই অবস্থান দেশের শিক্ষক সমাজে দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি এক ধরণের ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।মতবিনিময় সভায় উপস্থিত একজন শিক্ষক মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় ধরে রাখার জন্য পর্যাপ্ত অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধার অভাবের বিষয়টি উত্থাপন করলে শিক্ষামন্ত্রী তার উত্তরে বলেন, শিক্ষকদের আর্থিক সহায়তার বিষয়টি অন্য কোনো বেতন কাঠামোর সাথে তুলনা করা উচিত নয়। 

তিনি মনে করেন, যখনই অন্য কোনো সরকারি স্কেলের সাথে শিক্ষকদের বেতন তুলনা করা হয়, তখনই নানা ধরণের আইনি জটিলতা, মামলা এবং আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “আমি মনে করি, শিক্ষকদের জন্য আলাদা একটা পে-স্কেল গঠন করা উচিত। সেটি বেশি হোক বা কম, তা মুখ্য নয়; কিন্তু এটি হতে হবে অন্য সব স্কেল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।”

আলাদা পে-স্কেলের পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য আরও একটি সুখবর দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর ধরে শিক্ষকদের উৎসব ভাতা না বাড়ার বিষয়টি সরকারের নজরে রয়েছে। শিক্ষকদের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে চলতি বছরেই উৎসব ভাতা ১০ শতাংশ বৃদ্ধির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আসন্ন ঈদুল আজহার সময় থেকেই এই বর্ধিত উৎসব ভাতা কার্যকর করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে।

ময়মনসিংহের এই সভায় মন্ত্রী মূলত এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রস্তুতি ও সুষ্ঠু পরিচালনা নিয়ে কেন্দ্রসচিবদের দিকনির্দেশনা দেন। তবে শিক্ষকদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট এই ঘোষণাগুলো সভার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েক গুণ। শিক্ষা ব্যবস্থার গুণগত মান নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের জীবনযাত্রার মান উন্নত করা অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

সরকারের এই পদক্ষেপগুলো মাঠ পর্যায়ের শিক্ষকদের মনোবল বৃদ্ধি করবে এবং মেধাবীরা শিক্ষকতা পেশায় যোগ দিতে উৎসাহিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। বর্তমান সরকারের এই প্রস্তাবনাটি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে বলে মনে করছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।