এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৮:৫৯ পিএম
আসন্ন দাখিল পরীক্ষা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। আজ সোমবার ৬ এপ্রিল বোর্ডের পক্ষ থেকে পরীক্ষা আয়োজন সংক্রান্ত একটি নতুন নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড আইন ২০২০-এর আলোকে প্রণীত এই নীতিমালায় পরীক্ষার্থীদের নিবন্ধন, বয়সসীমা এবং কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে একগুচ্ছ নতুন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যা ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
বোর্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী এবারের পরীক্ষা বিগত কয়েক বছরের সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসে অনুষ্ঠিত হবে। এতে পূর্ণ সময় এবং পূর্ণ নম্বরেই শিক্ষার্থীদের মেধা যাচাই করা হবে।
বোর্ড অনুমোদিত বিভিন্ন মাদ্রাসা থেকে দশম শ্রেণির নিয়মিত পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করা এবং বৈধ রেজিস্ট্রেশনপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরাই কেবল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে। তবে নীতিমালায় এটিও স্পষ্ট করা হয়েছে যে রেজিস্ট্রেশন ও ফরম পূরণের তথ্যে কোনো ধরনের অসঙ্গতি বা গরমিল থাকলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থী ও প্রতিষ্ঠান প্রধানকে বহন করতে হবে।
বয়সের ক্ষেত্রেও নীতিমালায় নির্দিষ্ট সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে যা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য পরীক্ষার বছরের ১ জানুয়ারি তারিখে ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৪ বছর এবং সর্বোচ্চ ২০ বছর। তবে অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের জন্য রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে বয়সের এই শর্ত কিছুটা শিথিলযোগ্য রাখা হয়েছে। পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করে নিজ নিজ আসনে উপস্থিত থাকতে হবে বলে নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কড়া পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে নীতিমালায়। কেন্দ্রের চারপাশের ১০০ গজের মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি থাকবে যাতে বাইরের কোনো প্রভাব পরীক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে। পরীক্ষার্থীরা সাধারণ সায়েন্টিফিক ক্যালকুলেটর ব্যবহার করতে পারলেও প্রোগ্রামিং ক্যালকুলেটর বা যেকোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে রাখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও প্রতিটি কেন্দ্রে কমপক্ষে একজন নারী পরিদর্শক বা ইনভিজিলেটর থাকা বাধ্যতামূলক করেছে বোর্ড।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য নীতিমালায় মানবিক কিছু সুযোগ রাখা হয়েছে। দৃষ্টিহীন বা শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীরা শ্রুতিলেখকের সহায়তা নিতে পারবে এবং বোর্ডের পূর্বানুমতি সাপেক্ষে তারা অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পাবে। অন্যদিকে অটিস্টিক বা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের জন্য নির্ধারিত সময়ের চেয়ে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট সময় বরাদ্দ করা হয়েছে। পরীক্ষার পর উত্তরপত্র ও ওএমআর শিট পরিবহনেও কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। ওএমআর শিটগুলো হলুদ রঙের কাপড়ে মুড়িয়ে সিলগালা করে সরাসরি বোর্ডে পাঠাতে হবে যা এই প্রক্রিয়াকে আরও নিরাপদ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন