শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শাহবাগে মশাল মিছিল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ৮, ২০২৬, ১১:২১ পিএম

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শাহবাগে মশাল মিছিল

শাহবাগে মশাল মিছিল

গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে মশাল মিছিল করেছে ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন আন্দোলন’ নামের একটি প্ল্যাটফর্ম। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর সায়েন্স ল্যাবরেটরি গেট থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি শাহবাগের শহিদ ওসমান হাদি চত্বর পর্যন্ত প্রদক্ষিণ করে।আন্দোলনকারীরা জানান, মূলত চারটি প্রধান দাবি নিয়ে তারা রাজপথে নেমেছেন। 

তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ কার্যকর রাখা, মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় অধ্যাদেশগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা।

মিছিল শেষে আয়োজিত সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। তিনি বলেন, গণভোটের রায় উপেক্ষা করার কোনো আইনগত বা নৈতিক সুযোগ নেই। জনগণের সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই শিক্ষার্থীরা আজ রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলোকে দুর্বল বা অকার্যকর করার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ এবং বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি। জুবায়েরের মতে, গণভোটের রায় অস্বীকার করার অর্থ হলো জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতাকে সরাসরি অস্বীকার করা।তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ যে রায় দিয়েছে, তা কোনো সাধারণ মতামত নয়; বরং এটি একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এই রায় বাস্তবায়নে গড়িমসি করা জনগণের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী।

বক্তব্যে এবি জুবায়ের জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কথা স্মরণ করে বলেন, তারা ক্ষমতার মোহে জীবন দেননি। তারা চেয়েছিলেন একটি ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।সরকারকে হুঁশিয়ার করে এই শিক্ষার্থী নেতা বলেন, জনগণের মতামতের তোয়াক্কা না করে কোনো সরকারই দীর্ঘকাল টিকে থাকতে পারে না। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান, জুলাই সনদ এবং গণভোটের বিষয়গুলো নিয়ে যেকোনো ধরনের টালবাহানা বন্ধ করতে হবে।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যেখানে গণভোটে বিপুল জনসমর্থন রয়েছে, সেখানে সেই রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীদের অনশনে বসতে হচ্ছে—যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। জনগণের রায় বাস্তবায়নে আরও কালক্ষেপণ করা হলে আন্দোলন আরও কঠোর ও জোরদার করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।মশাল মিছিলে রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। মিছিলটি শাহবাগ এলাকায় পৌঁছালে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। কর্মসূচি চলাকালে শাহবাগ এলাকায় ব্যাপক পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছিল।