মে ২৮, ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সাধারণ শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিয়ে এক ব্যতিক্রমী ঈদ পুনর্মিলনীর আয়োজন করা হয়েছে। ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা কলেজ শাখার উদ্যোগে কলেজ ক্যাফেটেরিয়ায় ঈদ-ই ইখওয়ান শীর্ষক এই বিশেষ মধ্যাহ্নভোজের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ক্যাম্পাসের আবাসিক ও অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। মূলত ঈদের ছুটিতে যেসব শিক্ষার্থী নানা প্রতিকূলতার কারণে বাড়িতে যেতে পারেননি তাদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এখানে একটা বিষয় বোঝা দরকার। উৎসবের দিনগুলোতে প্রিয়জনদের ছেড়ে ক্যাম্পাসে একা থাকা তরুণদের জন্য বেশ কষ্টের। আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে দূরত্বের কারণে কিংবা ব্যক্তিগত ও আর্থিক সংকটে পড়ে অনেক শিক্ষার্থীই ঈদের এই বিশেষ ছুটিতে বাড়ি ফিরতে পারেন না।
তাদের মনে যেন কোনো ধরনের একাকীত্ব বা বিষাদ তৈরি না হয় সেই লক্ষ্যেই এই পারিবারিক আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই মধ্যাহ্নভোজের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে অবস্থানরত সবার মাঝে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই আয়োজন নিয়ে তাদের ভালো লাগার কথা প্রকাশ করেছেন। রাকিবুল নামের এক শিক্ষার্থী জানান যে পরিবারের বাইরে থাকলেও ক্যাম্পাসে এমন একটি আয়োজন তাদের একাকীত্ব ভুলিয়ে দিয়েছে।
সিনিয়র ভাইদের আন্তরিকতা ও আপ্যায়নে পুরো ক্যাম্পাস চত্বরকে একটি দ্বিতীয় পরিবার বলে মনে হয়েছে। শিক্ষার্থীরা মনে করেন রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকটে এভাবে পাশে দাঁড়ানো অত্যন্ত ইতিবাচক একটি দৃষ্টান্ত।
আসলে মূল বিষয়টি হলো ঈদের মূল চেতনাকে ক্যাম্পাসের সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া। ছাত্রশিবিরের কলেজ শাখার সেক্রেটারি সাইমুন ইসলাম সানি বলেন পবিত্র ঈদুল আজহা আমাদের ত্যাগ, সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের অনন্য শিক্ষা দেয়। সেই চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করেই এই আয়োজন করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে ক্যাম্পাসের প্রতিটি মানুষকে ঈদের খুশিতে শামিল করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল।
সংগঠনের কলেজ শাখার সভাপতি মোস্তাকিম আহমেদ রাষ্ট্র ও ক্যাম্পাস গঠনে মানবিক মূল্যবোধের ওপর জোর দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন ঢাকা কলেজ শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয় বরং এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি দ্বিতীয় পরিবার। একজন শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোকে তারা কেবল রাজনৈতিক দায়িত্ব মনে করেন না এটি একটি বড় মানবিক দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের সুখ, দুঃখ এবং অনুভূতির জায়গাগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তাদের সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে এমন মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন