জুন ৩, ২০২৬, ১১:০৫ এএম
বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মাদ্রাসায় কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত বদলি ব্যবস্থা চালু করতে এক যুগান্তকারী নতুন নীতিমালা জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ। `স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬` শীর্ষক এই বিশেষ প্রজ্ঞাপনটি গত মঙ্গলবার থেকে চূড়ান্তভাবে কার্যকর করা হয়েছে।
এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য একটি স্বচ্ছ ও দ্রুত বদলি প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা।নতুন এই নীতিমালার আওতায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের পুরো বদলি কার্যক্রমটি সম্পূর্ণ অনলাইনের মাধ্যমে স্বয়ং বা সফটওয়্যারভিত্তিক পদ্ধতিতে সম্পন্ন করা হবে।
প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, প্রথমবার চাকরিতে যোগদানের পর কোনো শিক্ষক ন্যূনতম দুই বছর সফলভাবে সম্পন্ন না করলে বদলির জন্য কোনো আবেদন করতে পারবেন না। একইভাবে একবার বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর পুনরায় আবেদনের ক্ষেত্রেও কমপক্ষে দুই বছর সেখানে কর্মরত থাকার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।
একজন শিক্ষক তাঁর সমগ্র চাকরি জীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন এবং আবেদনের সময় পছন্দের ক্রমানুসারে সর্বোচ্চ তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে পারবেন।একটি শূন্য পদের বিপরীতে একাধিক আবেদন জমা পড়লে সফটওয়্যার নির্ধারিত চারটি বিশেষ মানদণ্ডের ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করবে।
অগ্রাধিকার নির্ধারণের ক্ষেত্রে নারী আবেদনকারী, কর্মস্থলের দূরত্ব, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল এবং জনবল কাঠামো অনুযায়ী চাকরির জ্যেষ্ঠতাকে প্রধান বিবেচনায় নেওয়া হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর এই কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি নির্দেশিকা ও আবেদন ফরম্যাট চূড়ান্ত করবে এবং ইনডেক্স নম্বর অনলাইনের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হবে। বদলির চূড়ান্ত আদেশ জারির পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ১০ দিনের মধ্যে উক্ত শিক্ষককে অবমুক্ত করতে হবে এবং অবমুক্তির পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান বাধ্যতামূলক।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন