জানুয়ারি ২, ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম
দেশের মোবাইল ফোন বাজারে অবৈধ ও অননুমোদিত হ্যান্ডসেট নিয়ন্ত্রণে আনতে ১ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি মোবাইল ফোনের আইএমইআই নম্বর জাতীয় ডাটাবেজে যুক্ত করা হচ্ছে, যা চোরাই ও অবৈধ সেট শনাক্ত করতে সাহায্য করবে। তবে এই ব্যবস্থা চালুর পর থেকে মোবাইল ব্যবহারকারীদের মধ্যে নানা বিভ্রান্তি ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অনেক ব্যবহারকারী তাদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে অস্বাভাবিক সংখ্যায় মোবাইল ফোন নিবন্ধিত দেখতে পাচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে অভয় দিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব জানিয়েছেন যে, এনইআইআর চালু হলেও আগামী ৯০ দিন কোনো অবৈধ বা ক্লোন করা হ্যান্ডসেট বন্ধ করা হবে না। শুক্রবার দুপুরে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার অনুরোধ জানান।
এনআইডিতে অনেক বেশি হ্যান্ডসেট সচল দেখানোর কারিগরি কারণ ব্যাখ্যা করে ফয়েজ তৈয়্যব বলেন, মোবাইল অপারেটরদের কাছ থেকে প্রায় তিন বিলিয়নের বেশি ঐতিহাসিক ডেটা বা পুরনো তথ্য সিস্টেমে তোলা হয়েছে। মাইগ্রেশনের সময় বর্তমান তারিখ ব্যবহার করায় অনেকের এনআইডিতে পুরনো ও বর্তমান সব হ্যান্ডসেটের সংখ্যা বেশি দেখাচ্ছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এবং মোবাইল অপারেটররা বর্তমানে এই সমস্যা সমাধানে কাজ করছে।
ধীরে ধীরে পুরনো ডেটাগুলো আর্কাইভে সরিয়ে নিয়ে শুধুমাত্র বর্তমানে সচল হ্যান্ডসেটের সঠিক সংখ্যা দেখানো হবে। এছাড়া একজন ব্যক্তির একটি এনআইডির বিপরীতে আগে ২০টি বা ১৫টি সিম ব্যবহারের অনুমতি থাকলেও এখন তা ১০টিতে নামিয়ে আনা হচ্ছে।
এই তথ্যগুলো সামনে আসায় গ্রাহকরা সচেতন হতে পারবেন যে তাদের অজান্তে কোনো আর্থিক অপরাধ বা অনলাইন জুয়ায় তাদের পরিচয় ব্যবহার করা হচ্ছে কি না।সিস্টেমের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষ সহকারী আরও জানান যে, এই প্রযুক্তিটি নতুন নয়, ২০২১ সালে এটি চালুর চেষ্টা হয়েছিল এবং এখন কিছু নতুন ফিচার যোগ করে সচল করা হয়েছে। শুরুতে কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধান করা হবে।
ডেটাবেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই ‘জেডব্লিউটি’ টোকেন এবং রেট লিমিটের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অধিকতর নিরাপত্তার জন্য এনআইডি এবং আইএমইআই ম্যাপিংয়ের ক্ষেত্রে আরও একটি নতুন লেয়ার যুক্ত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিকায়ন নাগরিক অধিকার রক্ষা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন