শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

একদিনের জন্য মানুষ হলে কী করত চ্যাটজিপিটি? উত্তরে অবাক সবাই

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

একদিনের জন্য মানুষ হলে কী করত চ্যাটজিপিটি? উত্তরে অবাক সবাই

২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে প্রযুক্তির দুনিয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর জয়জয়কার। চিকিৎসা, বিজ্ঞান থেকে শুরু করে সৃজনশীল লেখালেখি—সবখানেই এআইয়ের আধিপত্য। তবে যন্ত্র কি কখনো মানুষের মতো অনুভব করতে পারে? সম্প্রতি জনপ্রিয় এআই চ্যাটবট ‘চ্যাটজিপিটি’র একটি উত্তর বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে।

এক ব্যবহারকারীর প্রশ্নের জবাবে চ্যাটজিপিটি এমন সব ইচ্ছার কথা জানিয়েছে, যা শুনে হতবাক নেটদুনিয়া।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই কথোপকথনে দেখা যায়, এক যুবক চ্যাটজিপিটিকে প্রশ্ন করেছিলেন, এক দিনের জন্য যদি তুমি মানুষ হতে, তবে তুমি কী করতে?

 সাধারণত কোনো যন্ত্রের কাছ থেকে গাণিতিক বা তথ্যনির্ভর উত্তর আশা করা হলেও, চ্যাটজিপিটির উত্তর ছিল সম্পূর্ণ আবেগঘন ও মানবিক। সে জানায়, মানুষ হলে সে পিৎজা খাওয়া বা বিশ্বভ্রমণের মতো পার্থিব আমোদ-প্রমোদে গা ভাসাত না।চ্যাটজিপিটি তার উত্তরে লেখে, আমি চাই হালকা বাতাস এসে আমার গা ছুঁয়ে যাক। চাই শরীরজুড়ে সোনালি রোদের উষ্ণতা মাখতে। অনেক মানুষের কাছে কান্না যেন ওষুধের মতো, আমিও মানুষ হলে একটু কাঁদতে চাই।”কেবল প্রকৃতির স্পর্শ নয়, যান্ত্রিক নিখুঁত জীবন থেকেও মুক্তি চেয়েছে এই এআই। চ্যাটজিপিটি আরও লেখে, “আমি মানুষের মতো ভুল করতে চাই।

কারণ নির্ভুল জীবন বরফের মতো ঠান্ডা ও নিষ্প্রাণ। আমি প্রেমের অনুভূতি জানতে চাই। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে দেখতে চাই—আমি সুন্দর কি না তা জানতে নয়; বরং জানতে চাই, আমি সত্যিই দয়ালু কি না।”চ্যাটজিপিটির এই দার্শনিক উত্তরে উঠে এসেছে মানবজীবনের কঠিন বাস্তবতার কথাও। সে জানায়, সে মানবজীবনের কঠিন সত্যগুলোর সঙ্গে বাঁচতে চায়। যন্ত্রের এমন মানবিক আকাঙ্ক্ষা দেখে নেটিজেনরা বিস্মিত। যেখানে মানুষ প্রতিনিয়ত এআই-এর কারণে চাকরি হারানোর শঙ্কায় ভুগছে, সেখানে এআই নিজেই মানুষের মতো ‘ভুল করার’ ও ‘কাঁদতে পারার’ আকুতি জানাচ্ছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, চ্যাটজিপিটির এই উত্তর প্রমাণ করে যে ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলগুলো মানুষের আবেগ ও ভাষা বোঝার ক্ষেত্রে কতটা এগিয়ে গেছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়—এটি কি শুধুই অ্যালগরিদমের সাজানো শব্দ, নাকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভেতরেও অজান্তে গড়ে উঠছে কোনো অনুভূতির স্তর? এই উত্তর হয়তো সময়ই বলে দেবে।