মে ১৮, ২০২৬, ০১:১৪ পিএম
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চিকিৎসায় এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে এক্স-রে, সিটি স্ক্যান, এমআরআই রিপোর্ট বিশ্লেষণ, রোগ শনাক্ত এবং নতুন ওষুধ আবিষ্কারের কাজে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। চিকিৎসাব্যবস্থাকে দ্রুত ও কার্যকর করতে এটি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও একই সঙ্গে কিছু নীতিগত উদ্বেগ ও ঝুঁকি তৈরি করেছে।
বিশেষ করে মেডিকেল ইমেজ বিশ্লেষণে এর কার্যকারিতা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে।স্তন ক্যানসার, ফুসফুসের রোগ, হৃদরোগ কিংবা ডায়াবেটিসের মতো জটিল রোগের প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্তে এই প্রযুক্তি ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। চিকিৎসকদের দ্রুত ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে এটি সাহায্য করে।
ওষুধ উদ্ভাবনে যেখানে গবেষকদের বহু বছর সময় লাগে, সেখানে এআই বিপুল তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে সম্ভাব্য কার্যকর উপাদান দ্রুত খুঁজে দিচ্ছে। এতে গবেষণার সময় ও ব্যয় দুটিই কমানোর সুযোগ তৈরি হচ্ছে।বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের অঞ্চলে যেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব রয়েছে, সেখানে স্মার্টফোন অ্যাপ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে পারে।
এর ফলে গ্রামের মানুষকে সাধারণ চিকিৎসার জন্য শহরে যেতে হবে না। তবে প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার একটি বড় ঝুঁকিও রয়েছে।এআই মূলত তথ্য ও ডেটার ওপর নির্ভর করে কাজ করে। ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হলে রোগ নির্ণয়ের চূড়ান্ত ফল ভুল আসার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া রোগীর চিকিৎসার ইতিহাস ও পরীক্ষার ফলের মতো সংবেদনশীল তথ্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সংরক্ষণ করা হলে সাইবার হামলা বা তথ্য ফাঁসের ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এআই তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারলেও মানুষের মতো মানসিক অনুভূতি, সহমর্মিতা বা জটিল পরিস্থিতিতে মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এর নেই। মানসিক স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রে চ্যাটবট মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতায় প্রাথমিক সহায়তা দিলেও তা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের বিকল্প হতে পারবে না।এছাড়া প্রযুক্তি স্থাপন, সফটওয়্যার ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণে বড় অঙ্কের প্রাথমিক ব্যয় প্রয়োজন। ফলে এই সুবিধা সাধারণ মানুষ সহজে পাবে নাকি কেবল বড় হাসপাতালেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন