জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ১১:৩০ এএম
উত্তর ভারতের আসাম রাজ্যে সোমবার ভোরে ৫.৪ মাত্রার একটি মাঝারি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে (ইউএসজিএস) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। কম্পনটি ভারত ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ভুটান ও বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়েছে।
সংস্থাটির মতে, স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ৪৭ মিনিটে (গ্রিনিচ মান সময় রোববার রাত ১০টা ৪৭ মিনিট) এই কম্পন অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল আসামের ভুটান সীমান্তের নিকটবর্তী ধিং গ্রামের প্রায় তিন কিলোমিটার পশ্চিমে। এটি ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয়েছে।ইউএসজিএস জানিয়েছে, কেন্দ্রস্থলের নিকটবর্তী এলাকায় বেশ শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে।
তবে কেন্দ্রস্থলটি তুলনামূলকভাবে কম জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা কম। তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।ভৌগোলিক কারণে হিমালয় অঞ্চল অত্যন্ত ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষের ফলে এখানে প্রায় প্রতি বছরই ছোট-বড় কম্পন অনুভূত হয়। ভারতের ইতিহাসের ভয়াবহতম কয়েকটি ভূমিকম্প এই অঞ্চলেই ঘটেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:
১৯৫০ সালের ভূমিকম্প: আসাম ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে হওয়া ৮.৬ মাত্রার এক শক্তিশালী ভূমিকম্পে প্রায় ৪,৮০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
১৮৯৭ সালের গ্রেট আসাম ভূমিকম্প: ৮.১ মাত্রার এই ভূমিকম্পকে ভারতের ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে ধরা হয়, যা ওই সময় পুরো এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত বিরতিতে এমন মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বড় ধরনের কোনো ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনের আগাম সতর্কবার্তা হতে পারে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন