জানুয়ারি ৫, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মার্কিন বাহিনীর হাতে বন্দি হওয়ার ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যার সবচেয়ে বড় প্রভাব অনুভূত হচ্ছে ইরানে। মাদুরোকে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইসরায়েলের শীর্ষ রাজনীতিক ইয়াইর লাপিদ তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন।
ভেনেজুয়েলায় যা ঘটছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত সোমবার (৫ জানুয়ারি) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই উত্তেজনার বিস্তারিত চিত্র ফুটে উঠেছে।
গত সপ্তাহে ফ্লোরিডায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে এক বৈঠকে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ধ্বংস করে দেওয়ার হুমকি দেন।
তিনি স্পষ্ট করেছেন, ইরান যদি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বা পারমাণবিক কর্মসূচি পুনর্গঠনের চেষ্টা করে, তবে ফের বিধ্বংসী হামলা চালানো হবে। এর আগে গত জুনে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এই হুমকি তেহরানকে আরও চাপে ফেলেছে।যুদ্ধের পথ প্রশস্ত? ন্যাশনাল ইরানিয়ান আমেরিকান কাউন্সিলের (এনআইএসি) সভাপতি জামাল আবদি মনে করেন, মাদুরোর বিরুদ্ধে নেওয়া এই ‘আইনহীন’ পদক্ষেপ ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন,মাদুরোর অপসারণ ইরানকে নিজস্ব সামরিক শক্তি বৃদ্ধি বা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ওপর আগাম পাল্টা হামলার মতো চরম কোনো পদক্ষেপ নিতে প্ররোচিত করতে পারে।অন্যদিকে, সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল পলিসির নেগার মোর্তাজাভি বলেন, ট্রাম্পের এই ‘সর্বোচ্চ চাপ’ প্রয়োগের নীতি কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ কমিয়ে দিয়েছে। তাঁর মতে, তেহরান এখন ‘সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ’ এর ভয়ে আলোচনায় বসতে আগ্রহী নয়, যা সরাসরি সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।
ইরান ও ভেনেজুয়েলা দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও অভিযোগ করেছেন, মাদুরো সরকার হিজবুল্লাহকে পশ্চিম গোলার্ধে ঘাঁটি গড়তে সহায়তা করেছে। যদিও এই দাবির সপক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি। সিরিয়ায় আসাদ সরকারের পতন এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর দুর্বল অবস্থার পর মাদুরোর পতন ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবকে আরও সংকুচিত করবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি’ হিসেবে অভিহিত করেছে এবং অবিলম্বে জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপে আহ্বান জানিয়েছে।বর্তমানে ইসরায়েল, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এক ভয়াবহ সামরিক সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মাদুরোর অপসারণ ও ট্রাম্পের কঠোর পররাষ্ট্রনীতি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন