জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ১০:৪৮ এএম
গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও থামছে না ইসরাইলের বর্বরোচিত সামরিক হামলা। বৃহস্পতিবার দিনভর উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে দখলদার বাহিনীর চালানো হামলায় অন্তত ১৪ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে পাঁচটি শিশু রয়েছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই নৃশংসতার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।
গত ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও মাঠ পর্যায়ে ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসন ও বিশ্বাসঘাতকতা অব্যাহত রয়েছে যা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি এলাকায় বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের অস্থায়ী তাঁবু লক্ষ্য করে হামলা চালায় ইসরাইল।
সেখানে অন্তত চারজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া গাজা সিটির জেইতুন এলাকায় পৃথক হামলায় আরও চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। মধ্য গাজার বুরেইজ এবং নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরেও বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনারা যেখানে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকায় ১১ বছর বয়সী শিশু হামসা হাউসু ইসরাইলি স্নাইপারের গুলিতে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে যা এই হামলার ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি) এক বিবৃতিতে বাস্তুচ্যুত বেসামরিক মানুষের ওপর ইসরাইলি এই আক্রমণকে স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে যে ইসরাইল কোনো আন্তর্জাতিক আইন বা যুদ্ধবিরতি চুক্তির তোয়াক্কা করছে না। তারা ফিলিস্তিনিদের পরিকল্পিতভাবে নির্মূল ও বাস্তুচ্যুত করার হীন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। চুক্তির আড়ালে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরানো হচ্ছে বলে বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়েছে। বারবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা এলেও ইসরাইলি সামরিক জান্তা তাদের আগ্রাসনী অবস্থান থেকে এক চুলও সরেনি।
গাজার ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির নামে গত ১১ অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৪২৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এছাড়া এই কয়েক দিনে আহত হয়েছেন এক হাজার ২০৬ জনেরও বেশি মানুষ। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের আহ্বান জানালেও ইসরাইলের মিত্র দেশগুলোর নীরবতা ও দখলদারদের একগুঁয়েমি গাজার সাধারণ মানুষের জীবনকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। খাবার, ওষুধ ও নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে ধুঁকতে থাকা গাজাবাসীর ওপর এই নিরন্তর হামলা এখন এক মানবিক বিপর্যয়ের চরম সীমায় পৌঁছেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন