শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,

মাদুরোকে আটকের পর তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ৯, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম

মাদুরোকে আটকের পর তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের পর এবার দেশটির বিশাল তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণে নিতে তোড়জোড় শুরু করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ শুক্রবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পানিগুলোর নির্বাহীদের সঙ্গে এক হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপির। গত ৩ জানুয়ারি এক ঝটিকা সামরিক অভিযানে মার্কিন বাহিনী মাদুরোকে আটকের পর ট্রাম্প প্রশাসনের পরবর্তী লক্ষ্য হিসেবে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতের ওপর পূর্ণ আধিপত্য প্রতিষ্ঠার বিষয়টি সামনে এসেছে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লিভিট জানিয়েছেন যে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী কর্তৃপক্ষের ওপর বর্তমানে ওয়াশিংটনের সর্বোচ্চ প্রভাব রয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছে যে তারা দেশটির তেল শিল্পকে অনির্দিষ্টকালের জন্য নিয়ন্ত্রণ করবে। এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে জ্বালানি খাতের জায়ান্ট কোম্পানি এক্সন মবিল, শেভরন এবং কনোকোফিলিপসের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বাজারজাতকরণে মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য যে বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

বর্তমানে মার্কিন কোম্পানিগুলোর মধ্যে কেবল শেভরন ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালানোর লাইসেন্সধারী। এর আগে ২০০৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট হুগো চাভেজের শর্ত না মানায় এক্সন মবিল ও কনোকোফিলিপস দেশটি ত্যাগ করেছিল। ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের ফলে দীর্ঘ দুই দশক পর মার্কিন কোম্পানিগুলো আবারও ভেনেজুয়েলায় বড় ধরনের বিনিয়োগ ও নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পেতে যাচ্ছে। তবে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ দাবি করেছেন যে তাদের সরকার এখনও ক্ষমতায় রয়েছে এবং রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো কেবল তেল বিক্রির বিষয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা করছে।

জ্বালানি বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক তেলের বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। মাদুরোকে আটকের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার পর এখন অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করাই ট্রাম্পের প্রধান কৌশলে পরিণত হয়েছে। ওয়াশিংটন সরাসরি দেশটির তেল শিল্প পরিচালনার ঘোষণা দেওয়ায় ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশটির সার্বভৌমত্ব ও জ্বালানি সম্পদ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের এই পরিকল্পনা সফল হলে আগামী কয়েক বছর ভেনেজুয়েলার জ্বালানি সম্পদের চাবিকাঠি কার্যত হোয়াইট হাউসের হাতেই থাকবে।