জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে ইরানে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের মুখে দেশটি কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিন-কে তেহরানের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, রাজধানীর মাত্র ছয়টি হাসপাতালেই কমপক্ষে ২১৭ জন বিক্ষোভকারীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসকের দাবি, নিহতদের বেশিরভাগই মারা গেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে এবং তাদের অধিকাংশের বয়স কম বা তারা তরুণ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, শুক্রবার কর্তৃপক্ষ হাসপাতালগুলো থেকে লাশ সরিয়ে নিয়ে গেছে, যাতে প্রকৃত সংখ্যা গোপন থাকে।তবে ইরান সরকার এখন পর্যন্ত হতাহতের এই বিশাল সংখ্যা নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।বিক্ষোভ দমনে এবং তথ্য প্রবাহ রুখতে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে দেশটিতে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশটির ভেতরের সঠিক চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
ইরানি মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি’ (HRANA) শুক্রবার জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ৬২ জন নিহত হয়েছেন। তাদের তথ্যমতে, নিহতদের মধ্যে ৪৮ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।বিক্ষোভের আগুন শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপরও পাল্টা আঘাত আসছে। তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কেরমানশাহে বিক্ষোভ চলাকালে ইরানের প্রভাবশালী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ৮ জন সদস্য নিহত হয়েছেন।
গত ২৮ ডিসেম্বর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে যে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা এখন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা ও সরকারের পতনের দাবিতে পরিণত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন