জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ১১:৪৯ এএম
ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এখন ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন এখন সরাসরি রাষ্ট্রকাঠামোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। রাজধানী তেহরানে বিক্ষোভকারীরা ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি একটি মসজিদে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বিক্ষোভকারীদের হাতে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লব পূর্ববর্তী সময়ের (শাহ আমলের) পতাকা দেখা গেছে, যা বর্তমান শাসনব্যবস্থার প্রতি তাদের চরম অনাস্থার প্রতীক।
রুশ সংবাদমাধ্যম তাস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের মেয়র আলিরেজা জাকানি শহরের ক্ষয়ক্ষতির এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, বিক্ষোভকারীদের হামলায় একটি হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২৬টি ব্যাংক লুট করা হয়েছে।
মেয়র আরও জানান:
একটি মসজিদে আগুন দেওয়া হয়েছে।
১০টি সরকারি ভবন, ২৪টি অ্যাপার্টমেন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৪৮টি ফায়ার ট্রাক, ৪২টি বাস এবং অ্যাম্বুলেন্স ভাঙচুর করা হয়েছে।
নিরাপত্তা বাহিনীর পোস্ট এবং ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সহযোগী মিলিশিয়া বাহিনী ‘বাসিজ’-এর সদর দপ্তরে হামলা চালানো হয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভে অংশ না নেওয়ার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অভিভাবকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, “আপনার সন্তানদের বিক্ষোভে যেতে দেবেন না। যদি সেখানে গোলাগুলি হয় এবং আপনার সন্তানের কিছু হয়, তাহলে অভিযোগ করবেন না।
রাজধানী তেহরানের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা ফুটে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের টাইম ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক চিকিৎসকের বক্তব্যে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই চিকিৎসক জানান, তেহরানের মাত্র ছয়টি হাসপাতালেই অন্তত ২১৭ জনের লাশ এসেছে। নিহতদের অধিকাংশই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানি রিয়ালের ব্যাপক দরপতনের প্রতিবাদে তেহরানে ব্যবসায়ীরা বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে সেই বিক্ষোভ দাবানলের মতো সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারপতনের আন্দোলনে রূপ নেয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন