জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০২:৩২ পিএম
মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে তুরস্ক। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘ব্লুমবার্গ’-এর এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
যদি তুরস্ক এই চুক্তিতে যুক্ত হয়, তবে তিন দেশ মিলে একটি শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় নিরাপত্তা জোট গড়ে উঠবে, যা এই অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান একটি ঐতিহাসিক প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করেন।
ওই চুক্তির মূল শর্ত হলো—যেকোনো এক দেশের ওপর বহিঃশত্রুর হামলা হলে তা দুই দেশের ওপর হামলা হিসেবে গণ্য করা হবে। তুরস্ক এখন এই প্রতিরক্ষা বলয়ে যুক্ত হয়ে নিজের প্রভাব আরও বিস্তৃত করতে চাইছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের সঙ্গে এই বিষয়ে আলোচনা অনেক দূর এগিয়েছে এবং শিগগিরই একটি চূড়ান্ত ঘোষণা আসতে পারে।
কেন এই জোট গুরুত্বপূর্ণ? বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর (NATO) ওপর নির্ভরতা কমিয়ে তুরস্ক এখন মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকায় নিজস্ব মিত্র তৈরি করতে চাইছে। এই জোট গঠিত হলে তিনটি ভিন্ন শক্তির সমন্বয় ঘটবে: ১. সৌদি আরবের বিশাল অর্থনৈতিক শক্তি। ২. পাকিস্তানের পারমাণবিক ও সামরিক সক্ষমতা। ৩. তুরস্কের আধুনিক ও উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি (যেমন: ড্রোন ও মিসাইল সিস্টেম)।
আঞ্চলিক উদ্বেগ: এই নতুন ‘ত্রিশক্তি’ জোটের সম্ভাবনা নিয়ে এরই মধ্যে ভারত, ইরান, ইসরায়েল এবং আফগানিস্তানের মতো প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, এমন সামরিক মেরুকরণ এই অঞ্চলে নতুন করে উত্তজনা সৃষ্টি করতে পারে।তবে এখন পর্যন্ত পাকিস্তান, তুরস্ক বা সৌদি আরবের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক দাপ্তরিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন