বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬,

বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন দেশ, কী হচ্ছে ইরানে

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০২:৪৯ পিএম

বাইরের দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন দেশ, কী হচ্ছে ইরানে

সড়কজুড়ে আগুনের লেলিহান শিখা, চারদিকে গাড়ির হর্নের তীব্র আওয়াজ আর মানুষের গগনবিদারী চিৎকার। মুহূর্তের মধ্যে রাজপথ যেন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হলো। একটি বহুতল ভবনে দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন, আর সেই আগুনের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার বিক্ষুব্ধ মানুষ। অথচ এই ভয়াবহ পরিস্থিতির খবর মুহূর্তেই বহির্বিশ্বে পৌঁছানোর কোনো উপায় নেই।

স্থবির হয়ে পড়েছে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা, নেই কোনো ইন্টারনেট সংযোগ। বাইরের পৃথিবী থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা একটি জনপদ।

এই অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে ইরানের রাজধানী তেহরানের কাজ স্কয়ারে (Quds Square)। গত কয়েকদিন ধরে চলা বিক্ষোভ শুক্রবার রাতে এক চরম রূপ ধারণ করেছে।

কেন এই অস্থিরতা? দেশটির ভয়াবহ অর্থনৈতিক সংকট এবং জাতীয় মুদ্রার (রিয়াল) অস্বাভাবিক দরপতনের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে রাজপথে নেমে আসে সাধারণ মানুষ। শুরুতে ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে এই বিক্ষোভের সূচনা হলেও এখন তা দেশজুড়ে সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাত থেকেই দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে ইরান সরকার। অনলাইন পর্যবেক্ষণ সংস্থা ‘নেটব্লকস’ জানিয়েছে, এটি ইরানের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ ইন্টারনেট শাটডাউন।

বাইরের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করে এই ব্ল্যাকআউটের আড়ালে বড় ধরনের সামরিক অভিযান বা দমন-পীড়ন চালানো হচ্ছে বলে আশঙ্কা করছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করেছেন তেহরানের এক চিকিৎসক। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল একে ‘রক্তাক্ত দমন-পীড়ন’ বলে অভিহিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হলে ইরানকে কঠিন আঘাত করা হবে। আমরা প্রস্তুত আছি (Locked and Loaded)।”

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, এই সহিংসতার পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সরাসরি হাত রয়েছে। এদিকে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো ধরনের নাশকতা সহ্য করা হবে না এবং পিছু হঠবে না ইসলামিক রিপাবলিক।মুদ্রাস্ফীতি, বেকারত্ব আর রাজনৈতিক উত্তেজনা মিলে ইরান এখন এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখে দাঁড়িয়ে। ব্ল্যাকআউটের কবলে থাকা দেশটি থেকে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।