জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনকে কেন্দ্র করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার উত্তেজনা এখন যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীদের ওপর ইরান সরকার গুলি চালালে যুক্তরাষ্ট্র হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না; প্রয়োজনে সরাসরি সামরিক হামলা চালানো হবে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউস থেকে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন বড় বিপদে রয়েছে। বিক্ষোভকারীরা এমন সব শহর দখল করে নিচ্ছে যা কল্পনাও করা যেত না।
ভিডিও ফুটেজে বিক্ষোভকারীদের সাহসিকতা দেখে তিনি সতর্ক করে বলেন, তোমরা (ইরান সরকার) গুলি না চালালেই ভালো করবে। কারণ তোমরা যদি গুলি চালাও, আমরাও গুলি চালানো শুরু করব। আমরা পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।
ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে আজ শনিবার সকালে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ভাষণ দিয়েছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি এই বিক্ষোভকে বিদেশি শত্রু, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একটি সাজানো চক্রান্ত বা ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।খামেনি সরাসরি অভিযোগ করেন যে, ট্রাম্পের হাত ইরানিদের রক্তে রঞ্জিত এবং বিদেশিদের ভাড়াটে হিসেবে কাজ করা ব্যক্তিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, দাঙ্গাকারীরা নিজেদের শহর ধ্বংস করছে শুধু মার্কিন প্রেসিডেন্টকে খুশি করার জন্য। ট্রাম্পের উচিত নিজের দেশের সমস্যার দিকে নজর দেওয়া।ইরানে গত দুই সপ্তাহের এই অস্থিরতায় নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি (HRANA) তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৪ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এছাড়া দুই হাজারেরও বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরান সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট পরিসেবা সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর মতে, এই ‘ব্ল্যাকআউট’ মূলত বড় ধরনের দমন-পীড়নের আলামত। তেহরানের কাজ স্কয়ারসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভারী অস্ত্রশস্ত্রসহ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কিছুটা নমনীয় সুরে জনগণের অভিযোগ শোনার আহ্বান জানালেও কট্টরপন্থি নেতারা দমন-পীড়নের পথেই হাঁটছেন। অন্যদিকে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত আসায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে এক নতুন যুদ্ধের দামামা বাজছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন