জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ১০:১৬ এএম
ইরানে চলমান নজিরবিহীন সরকারবিরোধী আন্দোলন দমনে চরম কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটির ইসলামি প্রজাতন্ত্র। চলমান বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বা বিক্ষোভকারীদের সহায়তাকারীদের ‘মোহরেব’ বা ‘আল্লাহর শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান সরকার। এই অপরাধের একমাত্র শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১ জানুয়ারি) ইরানের অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মোভাহেদি আজাদের দপ্তর থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই কঠোর বার্তা দেওয়া হয়।রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১৮৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী বিক্ষোভকারীদের ‘আল্লাহর শত্রু’ বলে গণ্য করা হচ্ছে।
ইরানের আইন অনুযায়ী, কোনো গোষ্ঠী যদি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিরোধিতায় জড়ায়, তবে সেই সংগঠনের লক্ষ্য জেনে যারা সহায়তা করবে, তারাও ‘মোহরেব’ হিসেবে বিবেচিত হবে।
এমনকি সরাসরি সশস্ত্র সংগ্রামে অংশ না নিলেও কেবল সহায়তার কারণেই তাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হতে পারে।গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই আন্দোলন দিন যত গড়াচ্ছে ততই রক্তক্ষয়ী রূপ নিচ্ছে। সংবাদমাধ্যম ‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর হাতে আসা কিছু ভিডিও ফুটেজে তেহরানের দক্ষিণে কাহরিজাক এলাকায় বডি ব্যাগে মোড়ানো অসংখ্য মৃতদেহ দেখা গেছেপ্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি শিল্প শেডের ভেতরে কয়েক ডজন মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে সেখানে যাওয়া দুই ব্যক্তি দাবি করেছেন, তারা সেখানে অন্তত ৪০০ মৃতদেহ দেখেছেন।
যদিও ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতের এই বিশাল সংখ্যার বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।অর্থনৈতিক মন্দা ও মুদ্রাস্ফীতির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন পুরোপুরি শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের দাবিতে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইরানের এই মৃত্যুদণ্ডের হুমকিকে ‘ভয়াবহ দমননীতি’ হিসেবে অভিহিত করে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশ্বনেতারা ইরান সরকারকে সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানালেও তেহরান বিক্ষোভকারীদের ‘বিদেশি মদদপুষ্ট দাঙ্গাকারী’ হিসেবেই দেখছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন