বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করছে ভারত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০১:৩৭ পিএম

পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় নতুন নৌঘাঁটি স্থাপন করছে ভারত

বঙ্গোপসাগরের উত্তরাংশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ও নজরদারি আরও জোরদার করতে পশ্চিমবঙ্গের হলদিয়ায় একটি নতুন নৌঘাঁটি গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ভারত।

চীনের ক্রমবর্ধমান নৌ তৎপরতা এবং বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে ঘিরে পরিবর্তিত আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটেই এই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে।

প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে জানা গেছে, হলদিয়ার এই ঘাঁটিটি পূর্ণাঙ্গ নৌকমান্ড হবে না, বরং এটি একটি নৌ ‘ডিটাচমেন্ট’ হিসেবে পরিচালিত হবে। এখানে মূলত ছোট আকারের এবং অত্যন্ত দ্রুতগতির যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

ফাস্ট ইন্টারসেপ্টর ক্রাফট (এফআইসি): যা দ্রুত উপকূলীয় অভিযানে সক্ষম।

নিউ ওয়াটার জেট ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট: প্রায় ৩০০ টন ওজনের এই নৌযানগুলো ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৪৫ নট গতিতে চলতে পারে।

রণসজ্জা: এসব নৌযানে সিআরএন-৯১ কামান এবং নজরদারির জন্য ‘নাগাস্ত্র’ ড্রোনের মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

 বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘাঁটি স্থাপনের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে: ১. চীনা তৎপরতা: ভারত মহাসাগর ও বঙ্গোপসাগরে চীনা নৌবাহিনীর ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা মোকাবিলা করা। ২. আঞ্চলিক সমীকরণ: বাংলাদেশে চীনের অবকাঠামো বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের সামরিক সম্পর্ক ভারতের জন্য নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করেছে। ৩. ভৌগোলিক সুবিধা: কলকাতা থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত হলদিয়ার অবস্থান থেকে হুগলি নদীর দীর্ঘ পথ এড়িয়ে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব।

প্রাথমিক পর্যায়ে এখানে প্রায় ১০০ জন নৌ কর্মকর্তা ও নাবিক মোতায়েন থাকতে পারেন। হলদিয়া বন্দরের বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই একটি পৃথক জেটি ও উপকূলীয় স্থাপনা নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুত এই ঘাঁটি চালু করতে চায় ভারতীয় নৌবাহিনী। বর্তমানে ভারতের পূর্ব উপকূলে বিশাখাপত্তনম এবং আন্দামান-নিকোবরে বড় নৌঘাঁটি থাকলেও, হলদিয়ার এই নতুন ডিটাচমেন্ট উত্তর বঙ্গোপসাগরের নিরাপত্তায় বাড়তি সুরক্ষা দেবে।

দীর্ঘদিন ধরে প্রকল্পটি স্থবির থাকলেও বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে দিল্লি। এর মাধ্যমে ভারতের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও সমুদ্রপথের সুরক্ষা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।