জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৩:৩০ পিএম
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দেশত্যাগের গুঞ্জন নিয়ে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখে ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা সপরিবারে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে রোববার (১১ জানুয়ারি) ভারতে অবস্থিত ইরানি দূতাবাস এই খবরকে সম্পূর্ণ ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজব’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
সম্প্রতি কিছু গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, ইরানে চলমান তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মুখে নিরাপত্তা বাহিনী যদি বিক্ষোভ দমনে সরকারের নির্দেশ অমান্য করে।
তবে খামেনি তার পরিবারের ২০ সদস্য নিয়ে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোতে চলে যেতে পারেন। এই খবর দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যারা এই খবর ছড়াচ্ছে তারা শত্রু রাষ্ট্রের অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, “ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের সরাসরি যুদ্ধের ভয়াবহ পরিস্থিতির সময়ও খামেনি তেহরান ছাড়েননি। সুতরাং সাধারণ বিক্ষোভের মুখে তার দেশত্যাগের খবরটি হাস্যকর ও বানোয়াট।” দূতাবাস এই অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।ইরানে বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ চলছে। কোথাও কোথাও দোকানপাট বন্ধ থাকলেও সরকারের সমর্থনেও বড় বড় সমাবেশ দেখা গেছে।
বিশেষ করে কেরমানসহ বেশ কিছু শহরে খামেনির পক্ষে হাজার হাজার মানুষ স্লোগান দিচ্ছেন।কোম শহরের বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা জামির জাফরি জানান, খামেনি গত ৩ জানুয়ারিও জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন এবং তিনি এখনো সক্রিয়ভাবে দেশ পরিচালনা করছেন। তেহরানের পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক দাবি করে তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমকে যাচাই না করে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির অভ্যন্তরে অর্থনৈতিক সমস্যা গভীর হলেও সর্বোচ্চ নেতার ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ এবং ধর্মীয় সমর্থন এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন