বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে চরম শায়েস্তার হুঁশিয়ারি ইরানের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ১১, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে চরম শায়েস্তার হুঁশিয়ারি ইরানের

ছবি - সংগৃহীত

ইরানের চলমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও সরকারবিরোধী বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি হস্তক্ষেপের হুমকির জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে চরম শায়েস্তার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

রোববার (১১ জানুয়ারি ২০২৬) ইরানের পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে সংসদ স্পিকার এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।

 স্পিকার কালিবাফ বলেন যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলা চালায় তবে দখলকৃত ভূখণ্ড (ইসরায়েল) এবং ওই অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও নৌযান আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।

তিনি আরও জানান ইরান কেবল প্রতিক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করবে না বরং যেকোনো হুমকির সংকেত পেলেই সরাসরি ব্যবস্থা নেবে।সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লেখেন “ইরান এখন স্বাধীনতার দিকে তাকিয়ে আছে এবং যুক্তরাষ্ট্র সহায়তার জন্য প্রস্তুত।” ট্রাম্প আরও সতর্ক করেছেন যে ইরান যদি বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করবে। মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টও জানিয়েছে যে ট্রাম্পের হুমকি কেবল মুখের কথা নয় বরং তিনি যেকোনো সময় এর বাস্তবায়ন করতে পারেন।

টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই বিক্ষোভ এখন রাজধানী তেহরান ছাপিয়ে মাশহাদসহ বড় বড় শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (HRANA) জানিয়েছে:

নিহত: ১১৬ জন (যার মধ্যে ৩৭ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য ও সরকারি কর্মকর্তা)।

আটক: প্রায় ২,৬০০ জন।

ইরান বর্তমানে প্রায় ৬০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। নেটব্লকস জানিয়েছে এই সেন্সরশিপ নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য সরাসরি হুমকি। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর আশঙ্কা ২০১৯ সালের মতো এবারও ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে সরকার বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন চালাতে পারে।ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এখন একটি সরু সুতার ওপর দাঁড়িয়ে আছে যেখানে একদিকে অভ্যন্তরীণ জনরোষ এবং অন্যদিকে আন্তর্জাতিক সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দেশকে এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।