ফেব্রুয়ারি ১, ২০২৬, ১১:১৫ এএম
যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত প্রয়াত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইন–সংক্রান্ত নতুন নথি প্রকাশ করেছে মার্কিন বিচার বিভাগ, যেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নাম উঠে আসায় আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ‘এপস্টেইন ফাইলস ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট’-এর আওতায় প্রকাশিত এই বিপুল পরিমাণ নথিতে মোদির নাম আসাকে সরাসরি ‘ভিত্তিহীন ও নিন্দনীয়’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত সরকার।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নথিতে থাকা তথ্যগুলোর মধ্যে কেবল ২০১৭ সালে মোদির ঐতিহাসিক ইসরায়েল সফরের বিষয়টি সত্য, বাকি সব দাবি বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানান, তথাকথিত ওই ফাইলে একটি ই-মেইলের উল্লেখ রয়েছে যেখানে প্রধানমন্ত্রী মোদি ও তাঁর ইসরায়েল সফরের কথা বলা হয়েছে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ২০১৭ সালের জুলাই মাসের সেই সফরের ঐতিহাসিক তথ্য ছাড়া নথিতে থাকা অন্য সব দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যানযোগ্য।
উল্লেখ্য, ১৯৯২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের ২৫ বছর পর মোদিই ছিলেন প্রথম কোনো ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী, যিনি ইসরায়েল সফর করেছিলেন।মার্কিন বিচার বিভাগের প্রকাশিত এই নতুন নথির মধ্যে রয়েছে ৩০ লাখেরও বেশি ডকুমেন্ট, দুই হাজার ভিডিও এবং প্রায় দুই লাখ ছবি। জেফরি এপস্টেইনের কিশোরী যৌন নির্যাতন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে তার নেটওয়ার্ক জনসমক্ষে আনতেই এই পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
তবে এই নথি প্রকাশের পর ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে চাপ বাড়ছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতা পবন খেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর ব্যাখ্যা দাবি করেছেন। খেরার দাবি, নথিতে এপস্টেইনের উদ্ধৃতি রয়েছে যেখানে মোদির ‘পরামর্শ নেওয়া’ সংক্রান্ত কিছু অস্বস্তিকর মন্তব্য আছে।
জেফরি এপস্টেইন ২০১৯ সালের আগস্টে নিউ ইয়র্কের কারাগারে আত্মহত্যা করেন বলে জানানো হয়। তার মৃত্যুর পরও এই মামলার তদন্ত এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল রয়ে গেছে। এখন মোদির নাম আসায় তা ভারতের জাতীয় মর্যাদা ও আন্তর্জাতিক সুনামের ওপর কোনো প্রভাব ফেলবে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। ভারত সরকার বিষয়টিকে একটি ‘কাকতালীয় ই-মেইল উল্লেখ’ হিসেবে দেখলেও বিরোধীরা একে ইস্যু করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন