রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

‘চুক্তি না হলে কঠিন পথ বেছে নেবে যুক্তরাষ্ট্র’—ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১১, ২০২৬, ১১:১৪ এএম

‘চুক্তি না হলে কঠিন পথ বেছে নেবে যুক্তরাষ্ট্র’—ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা তুঙ্গে থাকা অবস্থায় ইরানের উদ্দেশে আবারও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান যদি ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় না আসে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ‘কঠিন পথ’ বেছে নিতে বাধ্য হবে।

 মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের টেলিভিশন চ্যানেল ১২-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প এই সতর্কবার্তা দেন। তার এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধকে নতুন করে উস্কে দিয়েছে।

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “হয় আমরা একটি সম্মানজনক চুক্তি করব, নতুবা আমাদের গতবারের মতো খুব কঠিন কিছু করতে হবে।” তিনি দাবি করেন, এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন এবং ইরান খুব মরিয়া হয়ে একটি চুক্তি করতে চাইছে। আগামী সপ্তাহে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। 

তবে আলোচনার টেবিলে বসলেও যুক্তরাষ্ট্র যে সামরিক প্রস্তুতির দিক থেকে পিছিয়ে নেই, তারও ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। অ্যাক্সিওস ও চ্যানেল ১২-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে একটি মার্কিন নৌবহর অবস্থান করছে এবং ট্রাম্প প্রশাসন সেখানে দ্বিতীয় আরেকটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। ট্রাম্প অ্যাক্সিওসকে বলেন, “আমাদের একটি নৌবহর সেখানে যাচ্ছে, আরেকটি পাঠানোও হতে পারে।

অন্যদিকে, ইরানও নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে রাজি, কিন্তু ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সার্বভৌম অধিকার তারা কখনোই ত্যাগ করবে না। গত শনিবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, “আমরা আশা করছি শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা আবার শুরু হবে।” তবে তিনি একই সঙ্গে তেহরানের ‘রেড লাইন’ বা আপসহীন অবস্থানগুলো পুনর্ব্যক্ত করেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সামরিক হামলার বিরুদ্ধে পাল্টা সতর্কবার্তা দেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ‘ক্যারট অ্যান্ড স্টিক’ (পুরস্কার ও শাস্তি) নীতি ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল হতে পারে। একদিকে আলোচনার আহ্বান, অন্যদিকে রণতরী পাঠানোর হুমকি—এই দ্বিমুখী কৌশলে ইরান নমনীয় হবে কি না, তা আগামী সপ্তাহের আলোচনার ওপরই নির্ভর করছে। তবে চুক্তি ব্যর্থ হলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরণের সংঘাতের আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।