সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

ভানুয়াতুর উপকূলে ৬.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম

ভানুয়াতুর উপকূলে ৬.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত

ভানুয়াতুতে ভূমিকম্প

প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উপকূলে শক্তিশালী ৬ দশমিক ৪ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে যে স্থানীয় সময় শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে এই ভূকম্পন অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল দেশটির এস্পিরিটু সান্তো দ্বীপের পোর্ট অলরি গ্রাম থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে। 

শক্তিশালী এই কম্পনের ফলে প্রাথমিকভাবে কোনো বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র নিশ্চিত করেছে যে এই ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্র উপকূলে কোনো সুনামি সতর্কতা জারি করার প্রয়োজন পড়েনি। 

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী কম্পনটি বেশ দীর্ঘ সময় ধরে স্থায়ী ছিল। পোর্ট অলরির একটি রিসোর্টে কর্মরত অ্যান্টেলিক ফ্রাঙ্ক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে ভূমিকম্পটি অত্যন্ত শক্তিশালী ছিল এবং প্রায় এক মিনিট ধরে সবকিছু কাঁপছিল। 

তার আশেপাশের এলাকায় কোনো বড় ধরনের ভাঙন বা আহতের ঘটনা না ঘটলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। সাধারণত এই ধরনের শক্তিশালী কম্পনের পর আফটার শক বা মৃদু ভূকম্পনের আশঙ্কা থাকে যা নিয়ে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ভানুয়াতু ভৌগোলিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় রিং অফ ফায়ার অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে ঘনঘন ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটে থাকে। 

তিন লাখ ২০ হাজার মানুষের এই দ্বীপরাষ্ট্রটি টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত যা একে ভূমিকম্প প্রবণ করে তুলেছে। এবারের ভূমিকম্পে হতাহতের খবর না আসলেও কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় এলাকার পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এখানকার অবকাঠামো ভূমিকম্প সহনশীল হলেও গ্রামীণ এলাকায় কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ। 

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানায় যে ভূগর্ভস্থ কম্পনটি গভীরতা বেশি থাকায় এর প্রভাব স্থলভাগে তুলনামূলক কম অনুভূত হয়েছে। এর আগে গত কয়েক বছরেও এই অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে যা থেকে বড় ধরনের সুনামির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে এবারের ঘটনাটি নিয়ে আপাতত বড় কোনো আশঙ্কার কারণ নেই বলে আন্তর্জাতিক জরিপ সংস্থাগুলো নিশ্চিত করেছে।