শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরান চুক্তিতে নেতানিয়াহুর ৪ কঠোর শর্ত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম

ইরান চুক্তিতে নেতানিয়াহুর ৪ কঠোর শর্ত

শর্ত দিলেন নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তির জন্য চারটি কঠোর শর্ত উত্থাপন করেছেন। রোববার এআইপিএসিতে দেওয়া এক ভাষণে তিনি সাফ জানিয়েছেন যে ইরানকে শুধুমাত্র ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করলেই চলবে না। নেতানিয়াহুর দাবি অনুযায়ী ইরানের সম্পূর্ণ পারমাণবিক অবকাঠামো ভেঙে ফেলতে হবে এবং দেশটিতে থাকা সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে সরিয়ে নিতে হবে। 

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে এই শর্তগুলো পূরণ না হলে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যেকোনো সময় আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

নেতানিয়াহুর দেওয়া শর্তের মধ্যে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপরও বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ৩০০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে হবে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের আর্থিক ও সামরিক সমর্থন পুরোপুরি বন্ধ করার শর্তও দিয়েছেন তিনি। 

নেতানিয়াহু মনে করেন এই চারটি শর্ত বাস্তবায়ন না করে ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তিতে যাওয়া হবে ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য চরম হুমকি। তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোঁজা হচ্ছে।মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী ইরানের ওপর সম্ভাব্য ইসরায়েলি হামলায় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সহায়তা করতে পারে তা নিয়ে দুই দেশের সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে। 

সিবিএস নিউজ জানিয়েছে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মার-এ-লাগো বৈঠকে নেতানিয়াহুকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে চুক্তি না হলে ইসরায়েলি হামলায় ওয়াশিংটনের সমর্থন থাকবে। বর্তমানে মার্কিন কর্মকর্তারা ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহ এবং হামলার ফ্লাইটের জন্য বিভিন্ন দেশের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন।

তবে এই সম্ভাব্য সামরিক তৎপরতায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিবেশী দেশগুলো। ইরাক, জর্ডান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এরই মধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে তারা ইরানের ওপর হামলার জন্য নিজেদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডসহ দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিলেও মার্কিন দূতরা ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসার অপেক্ষায় রয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বর্তমানে জেনেভায় আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করছেন।