ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১১:১৫ এএম
পরমাণু কর্মসূচি ইস্যুতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান আলোচনার ধীরগতিতে চরম হতাশা ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের লনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরাসরি জানিয়েছেন যে ওয়াশিংটন ইরানের কাছ থেকে যা চাইছে তেহরান তাতে এখনো সায় দেয়নি।
এই পরিস্থিতির জন্য তিনি ইরানকে দায়ী করে বলেন যে আলোচনার বর্তমান ধারায় তিনি মোটেও খুশি নন। ট্রাম্পের এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ বাড়িয়ে দিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে যুদ্ধের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে নিজের লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে দ্বিধা করবেন না। যদিও তিনি জানিয়েছেন যে সরাসরি কোনো যুদ্ধে জড়ানো তার লক্ষ্য নয় তবুও পরিস্থিতির প্রয়োজনে সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা অনিবার্য হয়ে উঠতে পারে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
টেক্সাসে পৌঁছানোর পর ট্রাম্প আরও কঠোর ভাষায় বলেন যে ইরান কোনোভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ চালিয়ে যেতে পারবে না। এমনকি বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য বা জ্বালানি প্রকল্পের নাম দিয়েও কোনো ধরনের সমৃদ্ধকরণ মেনে নেবে না যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের ভাষায় ২০ বা ৩০ শতাংশ নয় বরং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুরোপুরি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে হবে।ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থানের ফলে ইরানের ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কা কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন যদি সত্যিই কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয় তবে তা কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে একটি বড় আকারের যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এক জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। সেখানে মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত ইসরায়েল ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে দেশটিতে যেকোনো ধরনের ভ্রমণ পরিহার করতে বলা হয়েছে। এই সতর্কবার্তা থেকে বোঝা যাচ্ছে যে মার্কিন প্রশাসন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ওই অঞ্চলে একটি বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছে।
সূত্র: আল জাজিরা


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন