বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানে হামলার পর ইসরায়েলে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

ইরানে হামলার পর ইসরায়েলে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা

ইরানের রাজধানী তেহরানে বিমান হামলার পরপরই পাল্টা প্রতিশোধের আশঙ্কায় ইসরায়েলজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। আজ শনিবার ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এই ঘোষণা দেন। মূলত ইরান থেকে যেকোনো সময় ধেয়ে আসতে পারে শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র—এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দেশজুড়ে এই উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। 

এই ঘোষণার ফলে ইসরায়েলের সাধারণ জনজীবন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে ব্যাপক কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা বিশেষ নির্দেশনায় নাগরিকদের ঘরের বাইরে অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। 

এছাড়া সবাইকে নিজ নিজ বাড়ির সুরক্ষিত স্থান বা পাবলিক শেল্টারের কাছাকাছি অবস্থান করতে বলা হয়েছে যাতে সাইরেন বাজার সাথে সাথে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারেন। আজ সকালে তেহরানে বিস্ফোরণের খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজতে শুরু করে যা সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। 

প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ জানিয়েছেন যে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের জীবন রক্ষা করাই এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ইরান থেকে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি ভূখণ্ডে কোনো মিসাইল আঘাত হানার খবর পাওয়া যায়নি। আইডিএফ-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। 

বিশেষ করে তেল আবিব ও হাইফার মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া লেবানন ও সিরিয়া সীমান্তগুলোতেও বিশেষ নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।উল্লেখ্য যে আজ শনিবার ভোরের দিকে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী তেহরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় আকস্মিক হামলা চালায়। 

এই ঘটনার পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা সরাসরি সম্মুখ সমরে রূপ নিয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ইরান এই হামলার জবাব দিতে খুব বেশি সময় নেবে না। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্বনেতারা উভয় পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানালেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন যুদ্ধের কালো মেঘে ঢেকে গেছে। পরিস্থিতির যেকোনো অবনতি রুখতে প্রস্তুত রয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী।

সূত্র : এপি