বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইসরায়েল ও ইরানের আকাশসীমা বন্ধ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০১:৪৫ পিএম

ইসরায়েল ও ইরানের আকাশসীমা বন্ধ

আকাশসীমা বন্ধের ঘোষণা

ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজেদের আকাশসীমা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে ইসরায়েল। একই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইরানও। আজ শনিবার সকালে তেহরানসহ ইরানের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে এই শক্তিশালী হামলা চালায়। 

নিরাপত্তাজনিত কারণে বেসামরিক বিমান চলাচল বন্ধ রাখতেই এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে উভয় দেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

সংঘাতের আঁচ লেগেছে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও। ইরাকের পরিবহন মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তারা নিরাপত্তার স্বার্থে নিজেদের আকাশসীমা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে উত্তর ইরাকের গুরুত্বপূর্ণ এরবিল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের বিমান ওঠানামা স্থগিত করা হয়েছে। 

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনসগুলো তাদের নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করছে অথবা ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের ওপর দিয়ে যাতায়াতকারী দীর্ঘপাল্লার বিমানগুলো এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর এই যৌথ হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন যে শহরের কেন্দ্রস্থল থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে। 

বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয়ের খুব কাছাকাছি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তবে হামলার সময় খামেনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন কি না তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তেহরানের বেশ কয়েকটি কৌশলগত পয়েন্টে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে যা পুরো শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।হামলার তীব্রতা এবং পাল্টা আঘাতের আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে থাকা পশ্চিমা মিশনগুলোতেও সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। 

জানা গেছে যে কাতারে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসের কর্মীদের ইতোমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরান এই হামলার কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়ায় পুরো অঞ্চল এখন একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের মুখে দাঁড়িয়ে আছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন আকাশসীমা বন্ধের এই ঘোষণা মূলত বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের প্রাথমিক পদক্ষেপ হতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিশ্বনেতারা কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করলেও যুদ্ধাবস্থা এখনো বিদ্যমান।