ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরম উত্তেজনার দিকে মোড় নিয়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ বাহরাইন, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর পাওয়া গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এএফপির তথ্য অনুযায়ী, রিয়াদের বিভিন্ন জনবহুল এলাকায় বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটেছে, যা পুরো শহরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
হামলার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জানা গেছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক তৎপরতার জবাবে ইরান এই পাল্টা আক্রমণ শুরু করেছে। বাহরাইন সরকার নিশ্চিত করেছে যে, তাদের দেশে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তর সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
একই সময়ে কুয়েত এবং আবুধাবিতেও শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা হামলার পর আকাশজুড়ে ধোঁয়ার কুণ্ডলি উড়তে দেখেছেন।
এই সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে যখন ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালায়। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ওই হামলার আগেই খামেনিকে তেহরান থেকে সরিয়ে একটি নিরাপদ ও গোপন স্থানে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করছে না ইরান সরকার। গত ২৪ ঘণ্টায় ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার পথ রুদ্ধ ঘোষণা করার পরেই এই সামরিক সংঘাতের রূপ নেয়।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ধারাবাহিক হামলা মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে বাহরাইনে মার্কিন নৌঘাঁটিতে হামলা এবং সৌদি আরবের রাজধানীতে বিস্ফোরণ আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও বৈশ্বিক রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলো তাদের আকাশসীমা ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। পরিস্থিতি নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি সৌদি বা আমিরাত কর্তৃপক্ষ। তবে যে কোনো সময় বড় ধরনের সামরিক ঘোষণা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বার্তা :রয়টার্স


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন