ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ০৭:৪৭ পিএম
শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ বিমান হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সরকারি বাসভবন বা প্রাসাদটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। আকস্মিক এই হামলায় কেবল খামেনির বাসভবনই নয়, বরং ইরানের বর্তমান প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তা ও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীদের বাড়িগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এই ভয়াবহ হামলার পর তেহরানের আকাশজুড়ে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখা গেছে এবং শহরজুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে যে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সুপরিচিত প্রাসাদটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।
ছবির বিশ্লেষণে স্পষ্ট যে ভবনটির মূল কাঠামো ধসে পড়েছে এবং এর চারপাশ প্রচণ্ড বিস্ফোরণের তাপে কালো বর্ণ ধারণ করেছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, প্রাসাদটির ভেতরে অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক বা নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে যার ফলে পুরো কাঠামোটি বিধ্বস্ত হয়।
এই হামলার পর ইরানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে যেমন বড় প্রশ্ন উঠেছে, তেমনি অঞ্চলটির সামগ্রিক স্থিতিশীলতা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।তেহরানের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলার ফলে দেশটির প্রশাসনিক কাঠামো কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে স্যাটেলাইট থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী হামলার ব্যাপকতা ছিল নজিরবিহীন।
গত কয়েক দিন ধরে চলে আসা চরম উত্তেজনার পর সরাসরি সর্বোচ্চ নেতার বাসভবনে এই আক্রমণ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতিকে এক ভয়াবহ পরিণতির দিকে নিয়ে গেল। ইরান এই হামলার পর কী ধরনের সামরিক জবাব দেয় এখন সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়। ঘটনার ভয়াবহতা ও প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোতে সরাসরি আঘাত আসায় দেশটিতে বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সূত্র: আলজাজিরা


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন