বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আইআরজিসি প্রধান নিহত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১০:০৩ পিএম

ইরানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও আইআরজিসি প্রধান নিহত

ইরানের সামরিক বিপর্যয়

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শক্তিশালী যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অপূরণীয় ধস নেমেছে। শনিবার সকালে রাজধানী তেহরানসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনাগুলোতে চালানো এই হামলায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের প্রধান জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর এবং দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আমির নাসিরজাদেহ নিহত হয়েছেন। 

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এই অভিযানের সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট তিনটি উচ্চপর্যায়ের সূত্র এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধের এই নাটকীয় মোড় মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক পরিস্থিতিকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

অভিযানের প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে যে হামলার শুরুতেই তেহরানের কমান্ড সেন্টারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সেখানে অবস্থানরত বিপ্লবী গার্ডের প্রধান এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে প্রাণ হারান। 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে তাদের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী এই দুই শীর্ষ নেতার পাশাপাশি ইরানের গোয়েন্দা শাখার প্রধানও একই হামলায় নিহত হয়েছেন। যদিও ইরান সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে এই মৃত্যুর খবর স্বীকার করেনি তবে রয়টার্স এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো অত্যন্ত জোরালোভাবে এই দাবি প্রচার করছে।শনিবারের এই বিশাল আকস্মিক অভিযানে ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকেও প্রধান লক্ষ্যবস্তু হিসেবে রাখা হয়েছিল। 

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ একটি গোপন সূত্রের বরাতে দাবি করেছে যে খামেনি নিজেও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। তবে এই চাঞ্চল্যকর খবরের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খামেনির বেঁচে থাকার দাবি করলেও বর্তমান পরিস্থিতির ভয়াবহতা সেই দাবিকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে এই আক্রমণকে সবচেয়ে বড় সামরিক আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইরানের সামরিক ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের এমন বিপর্যয় দেশটির প্রতিরক্ষা কৌশলে বড় ধরনের শূন্যতা তৈরি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে আকাশ ও সমুদ্রপথে এই অপারেশন পরিচালনা করেছে বলে জানা গেছে। তেহরানের আকাশসীমায় এখনো অস্থিরতা বিরাজ করছে এবং শহরের প্রধান সড়কগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই হামলার পর ইরান কী ধরনের পাল্টা পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রাশিয়ার অবস্থান কী হয় তা এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: রয়টার্স