বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন, নিশ্চিত করল ইরানি সংবাদমাধ্যম

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ১, ২০২৬, ০৯:৩৭ এএম

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন, নিশ্চিত করল ইরানি সংবাদমাধ্যম

নিহত আয়াতুল্লাহ খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক হামলায় নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে ইরানি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ এবং ফারস নিউজ আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আল জাজিরাসহ আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, তেহরানে খামেনির বাসভবনে অত্যন্ত শক্তিশালী বিমান হামলার পর এই ঘটনা ঘটে। 

খামেনির মৃত্যুতে ইরানে ইতিমধ্যেই ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে এবং আগামী সাত দিন সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।শনিবার সকালে ইরানের রাজধানী তেহরানে খামেনির প্রাসাদ লক্ষ্য করে ইসরায়েলি ও মার্কিন সেনারা একযোগে আক্রমণ চালায়। 

হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন যে, তাদের বিশেষ অভিযানে খামেনি নিহত হয়েছেন। এর কিছুক্ষণ পরেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বিবৃতি দেন। যদিও ইরান শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে নীরবতা পালন করছিল এবং তথ্যের সত্যতা প্রথমে স্বীকার করেনি, তবে রোববার সকালে দেশটির রাষ্ট্রীয় প্রচারমাধ্যমগুলো খামেনির মৃত্যুর খবরটি প্রচার শুরু করে।

ইরানের শাসনব্যবস্থায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ছিলেন একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী। দেশটির সামরিক বাহিনী, বিচার বিভাগ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরাসরি তার নির্দেশনায় পরিচালিত হতো। ১৯৮৯ সালে ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর খামেনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। গত ৩৬ বছর ধরে তিনি ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও মধ্যপ্রাচ্যে দেশটির প্রভাব বিস্তারে মূল ভূমিকা পালন করেছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান যে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, খামেনি ছিলেন তার প্রধান চালিকাশক্তি।

বর্তমানে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে এবং দেশটির বিভিন্ন শহরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। খামেনির মৃত্যুর পর দেশটির ক্ষমতার পরবর্তী উত্তরাধিকার কে হবেন তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রবল জল্পনা শুরু হয়েছে। ইরানের সংবিধানে থাকা বিশেষ পরিষদের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এদিকে খামেনির মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডস ইতিমধ্যেই এই হামলার চরম প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সব মিলিয়ে খামেনির প্রস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বিশাল শূন্যতা ও নতুন অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে।