মার্চ ১, ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ মোহাম্মদ পাকপুর এবং ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি আলী শামখানির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে। রোববার বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।
তেহরানে পরিচালিত ভয়াবহ সামরিক অভিযানের মুখে এই দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার প্রাণহানি ইরানের সামরিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মোহাম্মদ পাকপুর ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনব্যাপী ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় তার পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর আইআরজিসির শীর্ষ পদে স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি দীর্ঘ ১৬ বছর আইআরজিসির স্থল বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছেন।
ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি এই বাহিনীর সাঁজোয়া ইউনিটের কমান্ডার ছিলেন এবং পরবর্তীতে নাজাফ আশরাফের ৮ম ডিভিশন ও আশুরার ৩১তম ডিভিশনের কমান্ডারের দায়িত্ব অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করেন।অন্যদিকে আলী শামখানি ছিলেন ইরানের প্রতিরক্ষা পরিষদের অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এবং ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় তিনি দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এই দুই জ্যেষ্ঠ নেতাই দীর্ঘ সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিলেন।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সামরিক কৌশল নির্ধারণ এবং বাস্তবায়নে পাকপুর ও শামখানি উভয়েই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতেন। তাদের মৃত্যুতে তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে এবং আইআরজিসির নতুন নেতৃত্বে কারা আসবেন, তা নিয়ে এখন আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক জল্পনা শুরু হয়েছে। ইরানের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে এই দুই অভিজ্ঞ কমান্ডারের প্রস্থানকে বড় ধরনের সামরিক শূন্যতা হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন