মার্চ ১, ২০২৬, ১১:৪১ এএম
ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাপক আকারে হামলা শুরু করেছে ইরান। দেশটির প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি জানিয়েছে, এবারের লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলের তেল নফ বিমানঘাঁটি, তেল আবিবের হাকিরিয়ায় অবস্থিত সামরিক কমান্ড সদর দপ্তর এবং একটি বৃহৎ প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্স।
ইরানের এই টানা দ্বিতীয় দিনের আক্রমণে ইসরায়েলজুড়ে উচ্চ সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অভিযানটি মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বিমান হামলার ষষ্ঠ দফার প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ। আইআরজিসি এক বিবৃতিতে দাবি করেছে যে, তারা কেবল ইসরায়েল নয় বরং মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত ২৭টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় বিপুল সংখ্যক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে তেহরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম।
আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, এই অঞ্চলে দখলদার শক্তি এবং তাদের মিত্রদের কর্মকাণ্ডের উপযুক্ত জবাব দিতেই এই বিস্তৃত সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী বা আইডিএফ জানিয়েছে যে, ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে হামলার ভয়াবহতা বিবেচনায় তেল আবিবসহ বিভিন্ন শহরে সতর্কতামূলক সাইরেন বাজানো অব্যাহত রয়েছে।
পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বেসামরিক নাগরিকদের বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরানি বাহিনী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে, তাদের এই কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে এবং একের পর এক হামলার মাধ্যমে তারা তাদের লক্ষ্য বাস্তবায়ন করবে। মধ্যপ্রাচ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় পুরো অঞ্চল এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত হয়েছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সামরিক বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন